সোমবার ১৫, জুন ২০২৬

সোমবার ১৫, জুন ২০২৬ -- : -- --

কাতারের হতাশা পেরিয়ে নতুন স্বপ্নে ব্রাজিল, চার বছরে বদলে যাওয়া এক অধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:১৭ এএম

কাতারের হতাশা পেরিয়ে নতুন স্বপ্নে ব্রাজিল, চার বছরে বদলে যাওয়া এক অধ্যায়

কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের ক্ষত এখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি ব্রাজিলের ফুটবলপ্রেমীদের মন থেকে। সেই হতাশার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন নেইমার নিজেও। তবে চার বছরের নানা উত্থান-পতন, কোচ পরিবর্তন ও ব্যর্থতার অধ্যায় পেরিয়ে নতুন আশা নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

কাতার বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের স্মৃতি স্মরণ করে গত এপ্রিলে এক পডকাস্টে নেইমার বলেছিলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমি কফিনের ভেতরে শুয়ে আছি আর সবাই এসে জিজ্ঞাসা করছে, ‘‘আরে, তুমি এখনো বেঁচে আছো?’’’

২০২২ সালের ৯ ডিসেম্বর ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। সেই ম্যাচের পর থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত দলটি খেলেছে ৩৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর মধ্যে ১৯টিতে জয় পেলেও বাকি ১৯ ম্যাচে ১০টি হার ও ৯টি ড্র করেছে সেলেসাওরা। অর্থাৎ এই সময়ে খেলা ম্যাচগুলোর অর্ধেকেই জয় পায়নি ব্রাজিল।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর কোচ তিতে দায়িত্ব ছাড়লে শুরু হয় নেতৃত্ব পরিবর্তনের অধ্যায়। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন র‍্যামন মেনেজেস। পরে দায়িত্ব পান ফার্নান্দো দিনিজ, কিন্তু বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে টানা তিন পরাজয়ের পর তাঁর অধ্যায়ও শেষ হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব পান দরিভাল জুনিয়র। তবে ২০২৫ সালের মার্চে আর্জেন্টিনার কাছে ৪-১ গোলে হারের পর তাঁকেও বিদায় নিতে হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের মে মাসে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেন ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি, যিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

গত চার বছরে কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপাও জিততে পারেনি ব্রাজিল। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় কোয়ার্টার ফাইনালেই উরুগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় দলটি। একই সঙ্গে কনমেবল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও ছিল টালমাটাল অবস্থা। ১৮ ম্যাচে মাত্র ৮টি জয় পায় তারা। ৬টি হার ও ৪টি ড্র নিয়ে লাতিন আমেরিকার পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চম স্থানে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ব্রাজিল।

বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুটি ম্যাচেই হার, পাশাপাশি কলম্বিয়া, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া ও ভেনেজুয়েলার কাছে পরাজয় দলটির দুর্বলতাকে স্পষ্ট করেছে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কলম্বিয়ার কাছেও হার দেখতে হয় ব্রাজিলকে। পুরো বাছাইপর্বে তিনজন ভিন্ন কোচের অধীনে খেলেছে দলটি এবং সর্বোচ্চ পাঁচ গোল করেছেন রাফিনিয়া।

এই সময়ে চোটের কারণে জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন নেইমারও। ২০২২ বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাত্র চারটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বলিভিয়ার বিপক্ষে দুটি গোল করে পেলের ৭৭ গোলের রেকর্ড ভেঙে দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন নেইমার। তবে পরের মাসে উরুগুয়ের বিপক্ষে চোটে পড়ে মাঠ ছাড়ার পর আর জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারেননি তিনি।

সব মিলিয়ে ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ব্রাজিলের পথচলা ছিল অস্থিরতা, ব্যর্থতা এবং পুনর্গঠনের গল্প। একসময় যে দলকে বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে ধরা হতো, তারা এবার নতুন কোচ, নতুন পরিকল্পনা এবং অসংখ্য প্রশ্ন নিয়ে বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে। এখন দেখার বিষয়, কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল আবারও নিজেদের হারানো আধিপত্য ফিরে পেতে পারে কি না।

Link copied!