প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পন্ন হওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও প্রবেশনকাল সম্পন্ন করার মাধ্যমে ধাপে ধাপে তাঁদের চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে।
রোববার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত ‘শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ (ইএসএ)-২০২৬’ যাচাইকরণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। বাংলাদেশ সরকার, গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই), ইউনিসেফ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ উদ্যোগে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল, কিন্তু আমি জানি না কেন তারা রাতারাতি এত দ্রুত এই নিয়োগ সম্পন্ন করল। এতে করে শিক্ষকদের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাই আমরা এটি পর্যালোচনা করছি এবং একই সাথে তাদের প্রশিক্ষণে পাঠিয়ে দুই বছরের প্রবেশনাল পিরিয়ডসহ নিয়োগ দিচ্ছি।’
গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট এবং প্রয়োজনীয় সনদ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এর পরপরই তাঁদের যোগদান করার কথা থাকলেও প্রায় চার মাস ধরে চূড়ান্ত পদায়ন প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও পিটিআই (প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্র) প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর তাঁদের চূড়ান্ত পদায়ন করা হবে। সর্বশেষ বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণও সরকার পর্যালোচনা করছে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডসন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশনের মিনিস্টার কাউন্সিলর মাইকেল ক্রেজা।
এ ছাড়া শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।
