বুধবার ১০, জুন ২০২৬

বুধবার ১০, জুন ২০২৬ -- : -- --

৩২ তলার ভবনে ৩৪ তলার ফ্ল্যাট কিনে প্রতারিত ক্রেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:২১ পিএম

চীনের শানসি প্রদেশে এক ব্যক্তির আবাসন কেনার স্বপ্ন পরিণত হয়েছে দীর্ঘ এক দুঃস্বপ্নে। বহুতল ভবনের ৩৪তম তলায় একটি ফ্ল্যাট কিনলেও পরে তিনি জানতে পারেন, যে ভবনের জন্য অর্থ পরিশোধ করেছেন সেখানে ৩৪তম তলা তো দূরের কথা, মোট তলাই রয়েছে মাত্র ৩২টি।

ভুক্তভোগী শেন নামের ওই ব্যক্তি ২০১৩ সালে শি'আনের নিকটবর্তী একটি গ্রামে নির্মাণাধীন প্রকল্পে ৯০ বর্গমিটারের একটি ফ্ল্যাট কেনেন। প্রতি বর্গমিটারের দাম ছিল ২ হাজার ৬৪৬ ইউয়ান। সব মিলিয়ে ফ্ল্যাটটির মূল্য দাঁড়ায় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকার সমপরিমাণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেন তথাকথিত ‘গ্রে মার্কেট’ আবাসন প্রকল্পের শিকার হন। এসব প্রকল্প সাধারণত সরকারি অনুমোদন ছাড়া গ্রামীণ জমিতে নির্মিত হয় এবং এগুলোর কোনো আইনি স্বীকৃতি, মালিকানা সুরক্ষা কিংবা পুনরায় বিক্রির নিশ্চয়তা থাকে না। বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে ফ্ল্যাট বিক্রি করেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হয়।

ফ্ল্যাট বুকিংয়ের সময় শেন ডাউন পেমেন্ট হিসেবে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান পরিশোধ করেন। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাকে আশ্বাস দিয়েছিল, পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও মালিকানার কাগজপত্র সংগ্রহ করা হবে। তবে ২০১৫ সালে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ২০১৭ সালে। তখন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শেনকে জানায়, ভবনটিতে মোট ৩২টি তলা রয়েছে। অর্থাৎ তিনি যে ৩৪তম তলার ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্বই নেই। পরে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩২তম তলায় বিকল্প একটি ফ্ল্যাটের প্রস্তাব দেওয়া হলেও বাকি অর্থ পরিশোধে অক্ষম হওয়ায় সেটিও অন্য একজন ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেয় কোম্পানি।

ফ্ল্যাট না পেয়ে অর্থ ফেরতের দাবি জানালে আর্থিক সংকটের অজুহাত দেয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালে ২০ হাজার এবং ২০২২ সালে আরও ৫০ হাজার ইউয়ান ফেরত পেলেও এরপর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সালিসি প্রক্রিয়ায় নিয়ে যান শেন। সালিসি কর্তৃপক্ষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে বাকি ৪৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ২৭ হাজার ইউয়ান সুদ পরিশোধের নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত ৪৭ হাজার ইউয়ান ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও আদেশ দেওয়া হয়। তবে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত তিনি সেই অর্থ পাননি।

ফ্ল্যাট কেনার এক দশকেরও বেশি সময় পরও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত শেনের ঘটনা আবারও সামনে এনেছে কম দামে এবং আইনি সুরক্ষাবিহীন আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা।

Link copied!