শুক্রবার ১২, জুন ২০২৬

শুক্রবার ১২, জুন ২০২৬ -- : -- --

যোগদান অনিশ্চিত, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান সুপারিশপ্রাপ্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:১১ এএম

সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন, ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী। নিয়োগ কমিটির সুপারিশ পাওয়ার চার মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখনো তাদের যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এতে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে তারা যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ফলে অনেকেই আর্থিক সংকটের পাশাপাশি সামাজিক ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তারা বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হয়েছে। তবুও যোগদানের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

সুপারিশপ্রাপ্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৯৩ শতাংশ মেধা এবং ৭ শতাংশ কোটা অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা নির্বাচিত হয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের দ্রুত যোগদানের ব্যবস্থা করে দেশের শিক্ষা খাতে অবদান রাখার সুযোগ করে দেবেন।

জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত নির্বাচিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট ও অন্যান্য যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে চূড়ান্তভাবে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী এ সময়ের মধ্যেই যোগদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা স্থগিত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থীরা। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিংবা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।

তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্র জানিয়েছে, সুপারিশপ্রাপ্তদের মূল্যায়ন দুই ধাপে সম্পন্ন করা হবে। মূল্যায়ন শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই যোগদান সংক্রান্ত চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Link copied!