প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ১২:১১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর ‘ফিফথ ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটিও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত এখনো চলছে। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ার করে বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”
আইআরজিসি আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের জাস্ক, সিরিক ও কেশম দ্বীপের কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় সিরিকের বেমানি এলাকায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে চালানো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও কন্ট্রোল কেন্দ্রও রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
আইআরজিসি এ হামলাকে বৃহৎ পরিসরের প্রতিশোধমূলক অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটির ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে কুয়েতের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কুয়েতের সেনাবাহিনী নাগরিকদের সরকারি নির্দেশনা ও নিরাপত্তা সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গুজব এড়িয়ে শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
