প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বাজারে সিগারেট, আমদানি নির্ভর খাদ্যপণ্য, নির্মাণ সামগ্রীসহ একাধিক নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, আর ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
তামাক ও নিকোটিন পণ্যে বড় শুল্ক বৃদ্ধি
প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের সব স্তরের মূল্যসীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নিকোটিন পাউচ, সিগারেট ফিল্টারের কাঁচামাল এবং নিকোটিনের ওপর যথাক্রমে ৩০০ শতাংশ ও ৩৫০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে।
এর ফলে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
অ্যালকোহল ও আমদানি পণ্যে নতুন ভ্যাট
দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলের ওপর প্রতি লিটার ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চমূল্যের আমদানিকৃত হিমায়িত মাছের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা এসব পণ্যের বাজারমূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
কাজুবাদাম ও বিলাসী পণ্যে বাড়তি চাপ
আমদানি করা কাজুবাদামের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি প্রসাধনী, বিলাসবহুল পণ্য এবং উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন ভ্যাট আরোপের কথা ভাবা হচ্ছে।
নির্মাণ খাতেও প্রভাবের আশঙ্কা
মাইল্ড স্টিল (এমএস) রডসহ নির্মাণ সামগ্রীর উৎপাদন পর্যায়ে কর ও ভ্যাট প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নির্মাণ খাতের ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরোক্ষভাবে আবাসন বাজারেও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব কর ও শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে একাধিক খাতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।
