রবিবার ০৭, জুন ২০২৬

রবিবার ০৭, জুন ২০২৬ -- : -- --

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে কর্মমুখী শিক্ষার বিপ্লব, উদ্বোধন ৭ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার আওতায় আনতে দেশের বিভিন্ন কলেজের ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ৭ জুন (রোববার) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। ‘কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রায় আড়াই হাজার কলেজে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পরও প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী চাকরির বাজারে প্রত্যাশিত সুযোগ পাচ্ছেন না।

এই বাস্তবতা মোকাবিলায় সরকার, আইসিটি বিভাগ, এটুআই ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় নতুন দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থীরা ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং ডাটা সায়েন্সের মতো সমসাময়িক বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে।

উপাচার্য জানান, এসব বিষয়ে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ৯০০ জন মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো উচ্চশিক্ষাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে বাংলাদেশের মানবসম্পদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করা।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিল্প-একাডেমি সহযোগিতা বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও জানান উপাচার্য। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে কলেজভিত্তিক ভাষা ক্লাব গঠন করে শিক্ষার্থীদের চীনা, জাপানি, কোরীয়, স্প্যানিশ, ইতালীয় ও আরবি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দুই কোটিরও বেশি গাছ রোপণ করা সম্ভব হবে।

শিল্প-একাডেমি সংযোগ প্রসঙ্গে ড. আমানুল্লাহ বলেন, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ধরনের সম্পৃক্ততার হার ১০ শতাংশেরও কম। ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা, বিতর্ক এবং নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম আরও জোরদার করে শিক্ষার্থীদের মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মো. নূরুল ইসলাম অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!