বৃহস্পতিবার ২৮, মে ২০২৬

বৃহস্পতিবার ২৮, মে ২০২৬ -- : -- --

বাড়ি ফেরা হয়নি, বুটেক্সেই কর্মীদের ঈদের আনন্দ

সানজানা শওকত,বুটেক্স প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

ঈদের দিন বুটেক্সে কর্মীদের পাশে প্রশাসন

ঈদুল আযহা মানেই ত্যাগ, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা ভাগাভাগির উৎসব। নগরজীবনের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে যখন অধিকাংশ মানুষ পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দে মেতে ওঠেন, তখনও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) একদল কর্মকর্তা ও কর্মচারী দায়িত্ব পালন করে যান নীরবে। ঈদের ছুটিতেও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা সচল রাখতে দায়িত্বে থাকেন নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ড্রাইভার, অফিস সহায়ক ও ইউটিলিটি শাখার কর্মীরা।

দায়িত্ব পালনকারী এসব কর্মকর্তা কর্মচারীর প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা জানিয়ে এবারও বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের উদ্যোগে ঈদের দিন দুপুরে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। একসঙ্গে খাবারে অংশ নেওয়ায় ঈদের দিন নিস্তব্ধ ক্যাম্পাসে তৈরি হয় ভিন্নধর্মী এক পারিবারিক পরিবেশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক রুহুল আমিন ঈদের দিনে ক্যাম্পাসে থাকা কর্মীদের জন্য এই আয়োজনকে “মহৎ উদ্যোগ” উল্লেখ করে বলেন, “অনেক কর্মচারী আছেন যারা পরিবার ছাড়া ঢাকায় থাকেন, অনেকেই ব্যাচেলার। ঈদের দিনে আলাদা করে রান্না করা বা ভালোভাবে খাবারের ব্যবস্থা করা তাদের জন্য সহজ নয়। স্যার যেভাবে তালিকা করে সবাইকে কুরবানির মাংস দিয়েছেন এবং দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, এটা আমাদের জন্য অন্যরকম অনুভূতি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রাইভার মো. তালুকদারও আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “গত ঈদেও আয়োজন ছিল, এবারও হয়েছে। আমরা সবাই একসাথে খেয়েছি, খুব ভালো লাগছে। যারা ডিউটিতে থাকে, তাদের তো ঠিকমতো ঈদ করা হয় না। এই উদ্যোগটা তাদের জন্য অনেক আনন্দের।”

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গোলাম মোস্তফা বলেন, “ঈদের সময় সবাই একসাথে ছুটিতে যেতে পারেন না। পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন উদ্যোগ তাদের মানসিকভাবে অনেক স্বস্তি দেয়।” তিনি আরও বলেন, “আমরা খুব খুশি হয়েছি। স্যার আমাদের কথা চিন্তা করে এই আয়োজন করেছেন। আমরা মনে করি, আমাদেরকেও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।”

আয়োজক কমিটির প্রধান স্টেট অফিসার বাবুল আক্তার বলেন, “উপাচার্য স্যার দায়িত্ব গ্রহণের পর টানা তৃতীয় বারের মতন ঈদুল আযহা উপলক্ষে এই বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হলো। ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারীরা বিষয়টিকে খুব ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। তাদের মুখের হাসি দেখলে নিজেরও ভালো লাগে। নিজের অনেক পরিশ্রম থাকলেও সবার আনন্দ দেখলে সেটা আর কষ্ট মনে হয় না।”

ঈদ উপলক্ষে দেওয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে যারা পরিবার ছেড়ে ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।”

তিনি বলেন, “যারা বাড়ি যেতে পারেননি, তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করা এবং সবাইকে নিয়ে এক পরিবারের মতো ঈদ উদযাপন করতেই এই আয়োজন। তারা ছুটির দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা চাই, তারা যেন অনুভব করেন যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সবসময় তাদের পাশে আছে।”

ঈদের ছুটিতে নিস্তব্ধ ক্যাম্পাসে এই আয়োজন দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পরিবার থেকে দূরে থেকেও সহকর্মীদের সঙ্গে এক টেবিলে বসে খাবার ভাগাভাগি করার মুহূর্ত কর্মীদের মধ্যে তৈরি করেছে স্বস্তি ও আপনত্বের অনুভূতি। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

Link copied!