সানজানা শওকত,বুটেক্স প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
মঙ্গলবার ২৬, মে ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের ঈদ যাত্রায় তিনটি রুটে বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) প্রশাসন। ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় যাত্রাপথে শিক্ষার্থীদের যানবাহনের টিকেট সংকট, তীব্র যানযট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ নানা সমস্যার কার্যকরী সমাধান হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
রবিবার (২৪ মে) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় হতে বগুড়া, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা পথের উদ্দেশে তিনটি বাস রওনা হয়। এতে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী নির্বিঘ্নে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ ঠিকানায় পৌঁছাতে পেরেছেন। বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম ব্যাচের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শোয়াইব আল জান্নাত বলেন, ”ঈদের ঠিক আগে আগে প্রতিটি বিভাগীয় শহরের জন্য বাস ম্যানেজ করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। তবুও এই উদ্যোগকে বাস্তবায়নের মুখ দেখানোর প্রয়াসে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও বগুড়া রুটে বাস দেওয়ার মতো অসাধ্য কাজটি মুরাদ স্যার করেন। প্রথমবারের মতো হওয়ায় বেশ কিছু ত্রুটি হয়তো ছিলো। সব বিভাগীয় শহরে বাস নেওয়া সম্ভব হয়নি এবং বগুড়া রুটে নন-এসি বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অল্প সময়ের মধ্যে সকল শিক্ষার্থীকে জানানো যায়নি। তবে আজ যে শুরুটা হলো, তার দরকার ছিলো। যে যাত্রা শুরু হলো, তা আর থামবে না এবং প্রতিবছরই শিক্ষার্থীরা এমন আনন্দ ও উৎসব মুখোর পরিবেশে বাড়ি ফিরবে এমনটাই আশা করি।”
একই ব্যাচের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আলভী আহমেদ জানান, "দেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ঈদ যাত্রা সহজ করতে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস দিয়ে সেবা দিয়ে থাকে। যদিও বুটেক্সের পর্যাপ্ত নিজস্ব বাস নাই। চেষ্টা করেছিলাম বিদ্যমান ২টি বাস দিয়েই যদি শিক্ষার্থীদের ঈদ যাত্রায় তাদের গন্তব্য স্থলে পৌছে দেয়া যায়। আমরা উপাচার্য স্যারের সাথে কথা বলি এবং তিনি একবাক্যে রাজি হয়ে যান। পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি আমাদের যানবাহন কর্মকর্তা মুরাদ স্যারকে জানালে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বুটেক্সের নিজস্ব একটি বাসের পাশাপাশি, বিআরটিসির ২টি বাসের ব্যবস্থা করেন এবং বুটেক্সে এটি প্রথমবারের মতো ঈদ উপলক্ষে পরিবহন সেবা দেওয়া হলো।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বগুড়ার যাত্রী ও ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. নাঈম সরকার জানান, "বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ অবিশ্বাস্য। প্রথমে ভেবেছিলাম দীর্ঘ সময় লাইনে লাইন ধরে টিকেট কেটে বাসায় যাওয়া লাগবে তাই বোধ হয় দুই দিন পর যায়। কিন্তু এই কষ্টে লাঘব ঘটায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাই এখন আর কোন চিন্তা নেই। কেবল বাসে উঠবো এবং পৌঁছে যাব নিজ বাড়িতে।”
একই ব্যাচের আরেকজন ময়মনসিংহ পথের শিক্ষার্থী তাসনিম হাসান জিসান বলেন, ”সাধারণত দশদিন আগে টিকেট কাটতে না পারলে বাড়ি পৌঁছাতে বেশ বিড়ম্বনা শিকার হতে হয়। কিন্তু এই বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের এই উদ্যোগে আমরা নিরাপদ ও দ্রুত সময়ে বাড়ি যেতে পারছি। ঈদে পরিবারের সকলের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিব। তাছাড়া সকলে মিলে বাড়ি ফেরা একটা মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষকদের নিকট আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে যে প্রতিবছর আমরা যেন এই পরিবহন সেবা পেয়ে থাকি।”
যানবাহন কর্মকর্তা ড. মো. মুরাদ আহমেদ বলেন, ”শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও আনন্দয়ক যাত্রার ব্যবস্থা করতে পেরে আমি নিজেও আনন্দিত। আমি মনে করি, এবারের ঈদ যাত্রা শিক্ষার্থীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রতি ঈদে পরিবহন সুবিধা প্রদানের জন্য আমরা কাজ করবো। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাজেট বরাদ্দ এবং সেই সাথে ভর্তির সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরিবহন খাতের জন্য কিছু অর্থ আদান করা যেতে পারে। তাহলে আমরা প্রতিবছর এই সুবিধা প্রদানে সফল হতে পারবো।”
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন জানান, “শিক্ষার্থীদের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময় করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা চাই, সবাই একসঙ্গে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাক এবং পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করুক। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সফরের জন্য যাতায়াতের মানোন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, তার সবটুকুই করা হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের জন্য এর চেয়েও আরও উন্নত ও সুপরিসর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা ঈদ যাত্রায় পরিবহন সুব্যবস্থার জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের পাশাপাশি ফিরতি বাসের ও সকল বিভাগীয় শহরগুলোতে যাতায়াত সুবিধা দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছে।