বৃহস্পতিবার ২৮, মে ২০২৬

বৃহস্পতিবার ২৮, মে ২০২৬ -- : -- --

সন্তানের জীবন বাঁচাতে ৭৫ লাখ টাকার সংগ্রামে রাবি শিক্ষার্থী

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৬, ১০:০৭ এএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানা মিতু ও তার সন্তান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানা মিতু এখন কেবল শিক্ষার্থী নন; তিনি একজন অসহায় শিশুর জীবনের জন্য নিরন্তর লড়াই করা মা। প্রতিদিন রাত দিন তিনি সংগ্রাম করছেন, তবে এই লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দাঁড়াচ্ছে অর্থের অভাব।

মিতু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। তার ১৭ মাস বয়সী সন্তান ভুগছে একটি বিরল জেনেটিক রোগে, যা ‘এসএমএ টাইপ-২’ নামে পরিচিত। এই রোগে ধীরে ধীরে শরীরের পেশিগুলো দুর্বল হয়ে যায়, কারণ পেশি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুগুলো ক্রমেই কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে।

পরিবার জানিয়েছে, জন্মের পর থেকেই শিশুর শারীরিক বিকাশে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সে স্বাভাবিকভাবে বসতে, দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারছে না। এছাড়া শ্বাস নেওয়া ও খাবার খাওয়াতেও জটিলতা দেখা দিয়েছে। মেরুদণ্ড বাঁকা হওয়ার লক্ষণও প্রকটভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা চিকিৎসকদের উদ্বিগ্ন করছে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই রোগের সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো এককালীন জিন থেরাপি ইনজেকশন। যদি নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে এটি প্রয়োগ করা হয়, তাহলে শিশুর শারীরিক অবস্থা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে। তবে দুই বছরের আগে এই চিকিৎসা না করলে ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

child.jpg

চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন একটি বিশেষ ইনজেকশন, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। তবে সম্প্রতি চীনের একটি প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে ‘ভেসেমনোজিন’ ইনজেকশনের মাধ্যমে চিকিৎসার সুযোগ দিয়েছে। এর খরচও প্রায় ৭৫ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পর এই মূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সম্মত হয়েছে। তবে পরিবারের জন্য এই অর্থ জোগাড় করা এখন প্রায় অসম্ভব। এ পর্যন্ত সঞ্চয় ও আত্মীয়স্বজনের সহায়তায় সামান্য অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।

মানবিক সহায়তার আহ্বান ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সহপাঠী, শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীরা সাহায্যের চেষ্টা করছেন, তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম। চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন, শিশুর জীবন বাঁচাতে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা দ্রুত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।

শিশুর বাবা মো. আকিব হোসাইন শুভ জানিয়েছেন, ফান্ড সংগ্রহের চেষ্টা চলছে, তবে এখনও কাঙ্ক্ষিত অর্থ জোগাড় হয়নি। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সহযোগিতায়ই আমাদের সন্তানের জীবন বাঁচানো সম্ভব।’

মা রাজিয়া সুলতানা মিতু আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘প্রতিদিন সন্তানের দিকে তাকিয়ে মনে হয় সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। শুধু চাই, সে বাঁচুক, হাসুক, স্বাভাবিকভাবে বড় হোক। আপনাদের সাহায্য ছাড়া এটি সম্ভব নয়।’

Link copied!