প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
উত্তরা ইউনিভার্সিটির বাংলা ও ইংরেজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘কালের বিচারে রবীন্দ্রনাথ : সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি তাঁর আলোচনায় বর্তমান সময়ে রবীন্দ্র-চর্চার প্রাসঙ্গিকতা, সমসাময়িক সংকট ও এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত সুচিন্তিত ও গভীর আলোকপাত করেন। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য মানস ও বিশ্বমানব হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত অভিযাত্রা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন "রবীন্দ্রনাথ আমাদেরই একজন ছিলেন, আমাদের খুব কাছের এবং হৃদয়ের গভীরে আসন গেঁথে নেয়া একজন মানুষ ছিলেন।
তিনি প্রথমত বাঙালি ছিলেন, তারপর ছিলেন ভারতীয়। এবং এরপর তিনি হয়ে উঠেছিলেন বৈশ্বিক, সর্বকালের, সার্বজনীন। তার কাছে দেশ হিসেবে, জাতী হিসেবে আমাদের যে ঋণ তা অনস্বীকার্য। আমাদের সাহিত্যের ভাবনা, সাহিত্যের ভাষাকে ঋদ্ধ করার পেছনে তার অবদান অপরিসীম। বাঙালীর সাংষ্কৃতিক উত্তরণের ক্ষেত্রে, সারা পৃথিবীর জন্য বাংলা সাহিত্যের যে রুপরেখা তৈরি হয়ে আছে, সেই অস্তিত্বকে স্বীকার করলে সেখানে রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিয়ে ভাবা সম্ভব নয়।"
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে অলংকৃত করেন উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা। তিনি তার আলোচনায় বলেন “রবীন্দ্রনাথ কোনো নির্দিষ্ট কালের সীমানায় আবদ্ধ অতীত নন, বরং তিনি আমাদের প্রতিটি সংকটে ও উত্তরণে চিরন্তন বর্তমান। তাঁর সৃষ্টির অতলস্পর্শী ভাবধারাকে অনুধাবন করতে প্রয়োজন প্রথাবদ্ধ চিন্তার শৃঙ্খলমুক্তি, এক মুক্তচিন্তার আকাশ এবং ধ্যানের মতো গভীর একাগ্রতা। তবেই রবি-আলোয় চেনা যায় সমসাময়িক পৃথিবীর আসল রূপ। সময় বদলেছে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতা ফুরিয়ে যায়নি; বরং আজ এই জটিল সময়ে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রতিটি লাইন যেন আরো বেশি জীবন্ত। তাঁকে চেনার জন্য কোনো অন্ধ অনুকরণের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন এক উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ মন। মুক্তচিন্তা আর একাগ্রতার মেলবন্ধনেই কেবল রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী দর্শনকে বুকে ধারণ করা সম্ভব।”
সেমিনারে আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ড. পারভীন আক্তার জেমী, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড. সোহানা মাহবুব, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ড. চঞ্চল কুমার বোস, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, মমতাজ বেগম, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ড. ফায়েজ মোহাম্মদ সিরাজুল হক, উপদেষ্টা, উত্তরা ইউনিভার্সিটি এবং ড. সৈয়দা আফরোজা জেরিন, ডিন, কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি।
সেমিনারে বক্তারা, রবীন্দ্র-দর্শনের সমসাময়িক নানা দিক এবং আমাদের বর্তমান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকটে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অধ্যাপক ড. সোহানা মাহবুব ও অধ্যাপক ড. চঞ্চল কুমার বোস তাঁদের চমৎকার ও সাবলীল বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথের সামগ্রিক সাহিত্য ও চিন্তাভাবনাকে শ্রোতাদের সামনে বিশ্লেষণ করেন, যা উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, গুণিজনদের এই সুচিন্তিত আলোচনা ও রবীন্দ্র-দর্শন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অ্যাকাডেমিক ও মননশীল পথচলাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। পরিশেষে, আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আহ্বায়ক ড. শাহ্ আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, উপস্থিত অতিথি, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
