শনিবার ০২, মে ২০২৬

শনিবার ০২, মে ২০২৬ -- : -- --

বঙ্গোপসাগরে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যে বড় হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ০১:১৫ এএম

বঙ্গোপসাগর

বঙ্গোপসাগরসহ ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে সামুদ্রিক প্রাণবৈচিত্র্য, প্রবাল প্রাচীর এবং উপকূলীয় জনপদের জীবিকার ওপর স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে।

ভারতের তামিলনাড়ুর ফিশারিজ কলেজ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একদল গবেষক জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরসহ ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।

জলবায়ু পর্যবেক্ষণ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে এই অঞ্চলে বারবার তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা বেশি ছিল। গবেষকদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধি পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়, ফলে সামুদ্রিক প্রাণীরা চাপে পড়ে এবং খাদ্যশৃঙ্খল ব্যাহত হয়।

এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় প্রভাব পড়ছে প্রবাল প্রাচীরের ওপর। নির্দিষ্ট তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল প্রবালগুলো অতিরিক্ত উষ্ণতায় তাদের অভ্যন্তরীণ শৈবাল হারিয়ে ফেলে, যা ‘কোরাল ব্লিচিং’ নামে পরিচিত। এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবালের মৃত্যু ঘটে। অথচ প্রবাল প্রাচীর শুধু সামুদ্রিক প্রাণীর আবাস নয়, উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মাছের স্বাভাবিক আচরণ ও বিচরণক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অনেক প্রজাতির মাছ অপেক্ষাকৃত শীতল গভীর পানিতে সরে যাচ্ছে, ফলে উপকূলীয় জেলেদের জন্য মাছ ধরা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে তাদের খরচ ও ঝুঁকি উভয়ই বেড়ে যাচ্ছে, যা সরাসরি জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলছে।

এছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে পানির স্তরগুলোর মধ্যে পুষ্টি উপাদানের আদান-প্রদান কমে যাচ্ছে। এর ফলে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, যা সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ অব্যাহত থাকলে এই সংকট আরও তীব্র হবে।

ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেসসহ বিভিন্ন সংস্থা নিয়মিত সমুদ্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং আগাম সতর্কতা জারি করছে। তবে বিজ্ঞানীরা জোর দিয়ে বলছেন, শুধু পর্যবেক্ষণ নয়—কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

Link copied!