প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০১ এএম
মানুষের বার্ধক্য কেবল চেহারায় নয়, বরং শরীরের চলন ও সক্ষমতার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে—এমনই ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, পায়ের পেশির শক্তি হারালে তা মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে এবং আয়ু কমার ঝুঁকিও বাড়ায়।
গবেষণা অনুযায়ী, মাত্র দুই সপ্তাহ পায়ের পেশি নিষ্ক্রিয় থাকলে এর শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, যা শারীরিক সক্ষমতাকে প্রায় এক দশক পিছিয়ে দিতে পারে। বিশেষত বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাহ্যিক সৌন্দর্যের পরিবর্তনের চেয়ে পায়ের পেশির যত্ন নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শক্তিশালী পায়ের পেশি দীর্ঘায়ুর অন্যতম প্রধান নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, টানা নিষ্ক্রিয় থাকলে সব বয়সের মানুষই পায়ের পেশির প্রায় এক-চতুর্থাংশ শক্তি হারাতে পারেন। এর ফলে শরীরের জৈবিক বয়স ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। একবার এই শক্তি কমে গেলে তা পুনরুদ্ধার করা বেশ সময়সাপেক্ষ এবং কঠিন হয়ে পড়ে।
মানবদেহের গঠন বিশ্লেষণে দেখা যায়, শরীরের ভার বহনের ক্ষেত্রে পায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোট অস্থির প্রায় অর্ধেকই পায়ে অবস্থান করে এবং শরীরের ওজনের বড় অংশ বহন করে। পায়ের হাড়, পেশি ও জয়েন্ট একত্রে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে।
এ ছাড়া পা শুধু চলাফেরার জন্য নয়, শরীরের রক্ত সঞ্চালন ও স্নায়ুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। শরীরের উল্লেখযোগ্য অংশের রক্তনালী ও স্নায়ু পায়ের সঙ্গে যুক্ত। ফলে পায়ের পেশি শক্তিশালী থাকলে হৃদযন্ত্রও তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মনে করেন, বার্ধক্যের প্রক্রিয়া শুরু হয় পা থেকেই এবং ধীরে ধীরে তা শরীরের ওপরের অংশে প্রভাব ফেলে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক থেকে পায়ে সংকেত পাঠানোর ক্ষমতা কমে যায় এবং হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস পায়। এতে ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি বাড়ে, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী জটিলতার কারণ হতে পারে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, উরুর হাড় ভেঙে যাওয়ার পর এক বছরের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ বয়স্ক মানুষের মৃত্যু ঘটে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পায়ের পেশি শক্তিশালী রাখতে নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়ামের বিকল্প নেই। এমনকি ৬০ বছর বয়সের পরও এই অভ্যাস শুরু করা সম্ভব এবং তা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তাদের মতে, সক্রিয় জীবনযাপন কেবল একটি অভ্যাস নয়, বরং সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করার জন্য এটি হওয়া উচিত একটি অবিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা।
