প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
আফরিন আক্তার ইতি,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
মানুষের সভ্যতার প্রতিটি অগ্রযাত্রার পেছনে আছে শ্রমিকের নীরব অবদান। সেই অবদানের স্বীকৃতি আর ন্যায্য অধিকারের দাবিকে সামনে রেখেই প্রতিবছর ১ মে পালিত হয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। ইতিহাসের সংগ্রাম থেকে বর্তমান বাস্তবতা—এই দিনটি শুধু একটি দিবস নয়, বরং শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের চলমান লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি।
শ্রমিক দিবসের সূচনা হয়েছিল Haymarket Affair-এর মধ্য দিয়ে। ১৮৮৬ সালের এই আন্দোলনে শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন। সেই দাবি আজ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে বাস্তবায়িত হলেও, এখনো অনেক জায়গায় শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তৈরি পোশাক শিল্প, নির্মাণ খাত, কৃষি কিংবা পরিবহন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক শ্রমিকই এখনও ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত।
বিশেষ করে পোশাক শিল্পে কাজ করা শ্রমিকদের জীবন সংগ্রাম আমাদের সামনে এক কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কম মজুরি এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেও তারা দেশের রপ্তানি আয়ের বড় একটি অংশ নিশ্চিত করছেন। অথচ তাদের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অনেক সময়ই সীমিত থাকে।
শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচির আয়োজন করে—র্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়।
শুধু একদিনের আনুষ্ঠানিকতায় শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা। পাশাপাশি শ্রমিকদের নিজেদের মধ্যেও সচেতনতা ও ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি।
শ্রমিকদের ঘামে গড়া এই অর্থনীতিকে আরও টেকসই করতে হলে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস আমাদের সেই দায়বদ্ধতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়—শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হোক, প্রতিটি শ্রমিক পাক ন্যায্য অধিকার—এই প্রত্যাশায়
