শনিবার ০২, মে ২০২৬

শনিবার ০২, মে ২০২৬ -- : -- --

লুঙ্গি-গামছায় ভাইভার কারণ জানালেন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

আশিকুর রহমান আশিক। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ফাইনাল ভাইভা পরীক্ষায় সাধারণত ফরমাল পোশাকে উপস্থিত হন শিক্ষার্থীরা। তবে সেই চেনা নিয়মের বাইরে গিয়ে লুঙ্গি ও গামছা পরে ভাইভা বোর্ডে অংশ নিয়ে দৃষ্টি কাড়েন বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আশিক। তার এই উপস্থিতি ঘিরে সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে তৈরি হয় কৌতূহল, শুরু হয় আলোচনা।

শুক্রবার (১ মে) বিষয়টি নিয়ে কথা হলে আশিক জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষকদের মুখে প্রায়ই শোনা একটি কথা তাকে ভাবিয়েছে গভীরভাবে। ‘তোমরা চাষাভূষার টাকায় পড়াশোনা করো’—এই বক্তব্যই তাকে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিদ্যমান বৈষম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় অন্তত দুজন শ্রমিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এসব ঘটনার পর যথাযথ তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, তবে কেন প্রতিবছরই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে এবং কেন জবাবদিহি নিশ্চিত হচ্ছে না।

সমাজের প্রতিক্রিয়া নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, শ্রমিক বা কৃষকের মৃত্যু এখন অনেকাংশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘স্যাড রিঅ্যাক্ট’ ও সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই সীমাবদ্ধ। তথাকথিত সুশীল সমাজও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নীরব থাকে।

এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটেই ভিন্নভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন আশিক। ভাইভা বোর্ডে লুঙ্গি ও গামছা পরে উপস্থিত হয়ে তিনি মেহনতি মানুষের প্রতি সংহতির বার্তা দিতে চেয়েছেন। আশিক বলেন, আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা আন্তরিক ছিলেন। তারা আমার এই প্রতিবাদের ভাষাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, যা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।

প্রতীকী এই উপস্থিতির পাশাপাশি দেশের কৃষকদের বর্তমান দুরবস্থার বিষয়টিও সামনে আনেন তিনি। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের সংকটের কথা উল্লেখ করে আশিক বলেন, বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে ধান। এ অবস্থায় পরিকল্পিত উদ্যোগ নিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।

Link copied!