শুক্রবার ০১, মে ২০২৬

শুক্রবার ০১, মে ২০২৬ -- : -- --

জোকারের সাজে নোবিপ্রবি ইএসডিএম ১০ ব্যাচের শেষ ক্লাস

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ ক্লাসের স্মৃতিকে ফ্রেমবন্দী করতে সাধারণত রং খেলা বা ভিন্নধর্মী আয়োজন চোখে পড়ে। তবে এবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (ইএসডিএম) বিভাগের শিক্ষার্থীরা বেছে নিলেন একেবারেই ব্যতিক্রমী এক অনুষঙ্গ। জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র ‘জোকার’-এর আদলে মুখে মেকআপ মেখে শেষ ক্লাসে হাজির হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন বিভাগের ১০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। 

২৯ এপ্রিল (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইএসডিএম বিভাগে শিক্ষার্থীদের এমন ভিন্নধর্মী সাজে দেখা যায়। ১০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এমন ব্যতিক্রমী সাজে করতে দেখে অবাক হন শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। রঙিন মেকআপ আর কৃত্রিম হাসির আড়ালে তারা তুলে ধরেছেন ক্যাম্পাস জীবনের শেষ মুহূর্তের এক মিশ্র অনুভূতি। 

শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা গতানুগতিক বিদায় অনুষ্ঠানের বাইরে এসে কিছু একটা করতে চেয়েছিলেন। তাদের মতে, জোকার চরিত্রটি একই সাথে আনন্দ এবং সংগ্রামের প্রতীক। এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের শিক্ষার্থী হিসেবে তারা যেমন দুর্যোগ ও পরিবেশের প্রতিকূলতা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, ঠিক তেমনি ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিকূলতাকেও হাসিমুখে জয় করার বার্তা দিতেই এই ‘জোকার মেকআপ’ থিমটি বেছে নেওয়া হয়েছে। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিশেষ আয়োজনের ছবিগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, একদল তরুণ শিক্ষার্থী প্রথাগত পোশাকের সাথে মুখে জোকারের সেই চিরচেনা হাসি ও বিষণ্নতার মিশ্র মেকআপ করেছেন।শেষ ক্লাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ফটোসেশনে অংশ নেন। প্রিয় বন্ধুদের সাথে কাটানো শেষ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করার সময় অনেকের চোখেমুখে ছিল একাধারে বিচ্ছেদের বেদনা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। 

এ বিষয়ে অংশ নেওয়া বিভাগের ১০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আহমেদ সুরুর সামি জানান, "আমরা চেয়েছিলাম শেষ দিনটি শুধু সাধারণ আনন্দ নয়, বরং একটু ভিন্ন বার্তা দিয়ে শেষ করতে। চার বছরের এই যাত্রা শেষে আমরা এখন বাস্তব জীবনের বড় মঞ্চে প্রবেশ করছি, যেখানে আমাদের অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হবে। সেই সংগ্রামের প্রস্তুতি আর স্মৃতিটুকু ধরে রাখতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।" 

আরেক শিক্ষার্থী "রাইয়ান মুহাম্মদ জুলকারনাইন" বলেন,শেষ ক্লাসটা যেন একসাথে হাসি আর নীরব কষ্টের গল্প হয়ে রইল। জোকারের রূপে আমরা আমাদের ভেতরের লুকানো অনুভূতি,হাসির আড়ালে থাকা না বলা কষ্টগুলো প্রকাশ করেছি। এতদিনের বন্ধুত্ব, স্মৃতি আর একসাথে পথচলার শেষ মুহূর্তটা একটু অন্যভাবে ধরে রাখতে চেয়েছিলাম। বিশ্বাস করি, এই দিনের প্রতিটা মুহূর্ত আমাদের হৃদয়ে আজীবন থেকে যাবে।

Link copied!