বুধবার ২৯, এপ্রিল ২০২৬

বুধবার ২৯, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

বাজেট সংকটে বুটেক্স স্টেশনারি সম্প্রসারণ

সানজানা শওকত,বুটেক্স প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ পিএম

বুটেক্স স্টেশনারি। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) একাডেমিক ভবনের নিচ তলায় স্টুডেন্টস কর্নারে থাকা একমাত্র স্টেশনারি দোকানটি ঘিরে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জায়গা সংকট, অতিরিক্ত ভিড় এবং সীমিত জনবল মিলিয়ে প্রতিদিনই ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এ পরিস্থিতিতে স্টেশনারিটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থাকলেও বাজেট সংকটে তা বাস্তবায়ন থমকে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগে বুটেক্সের পুরনো টিএসসি ভবনের সামনে কেন্দ্রীয় স্টেশনারির অবস্থান ছিল। পরে সেটি স্থানান্তর করে একাডেমিক ভবনের নিচ তলায় আনা হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা এখান থেকেই বিভিন্ন কোর্সের বই, নোট, শিট প্রিন্ট এবং ফটোকপির মতো প্রয়োজনীয় সেবা নিয়ে থাকেন। ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান এবং বাইরের দোকানের তুলনায় তুলনামূলক কম দামের কারণে এই স্টেশনারির ওপর নির্ভরশীলতা বেশি।

তবে সীমিত জায়গার কারণে বিশেষ করে ক্লাস চলাকালীন সময়ে এখানে তীব্র ভিড় দেখা যায়। ল্যাব ফাইনাল পরীক্ষা এবং টার্ম ফাইনালের ফর্ম পূরণের সময় এই চাপ আরও বেড়ে যায়। ফলে প্রয়োজনীয় কাগজ প্রিন্ট বা ফটোকপি করতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আল আমিন হোসাইন বলেন, "স্টেশনারিটা বেশি ছোট হওয়ায় অনেক সময়ই দেখা যায় কোন একটা জিনিস প্রিন্ট করাতে, কিনতে, আনতে ভিড়ের মাঝে কখনো কখনো ২০-৩০ মিনিট সময় লাগে, যেটি মূলত ১-২ মিনিটের কাজ ছিল। কম্পিউটার অপারেটর মাত্র এক-দুইজন থাকায় সঠিক সময়ে সবার প্রয়োজন সামাল দিতে পারে না। সেলসম্যান এর সংখ্যাও কম থাকায় ভিড়ের সময় কোনো জিনিস কিনতে অনেক সময় নষ্ট হয়।"

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এম এম ফাহাদ জয় বলেন, "সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় ল্যাব বা ক্লাসগুলোর আগমুহূর্তে, যখন শিক্ষার্থীদের ভিড়ে এখানে মাত্রাতিরিক্ত চাপ থাকে। একটা কাজ করাতেই তখন অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া আরেকটা বড় সমস্যা হচ্ছে জায়গাস্বল্পতা। ওই ভিড়ের সময় একে তো অতিরিক্ত গরম, আবার এই অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে দাঁড়াতে হয় যা কিছুটা কষ্টদায়ক পরিস্থিতি তৈরি করে।"

তবে কর্মীদের দৃষ্টিতে পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। স্টেশনারিতে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর মো: হাসান বলেন, "বর্তমানে স্টেশনারিতে আমরা তেমন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিনা আগের মতো। প্রিন্টার সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পূর্বের চেয়ে খানিকটা লাঘব হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "ইতিপূর্বে যখন ক্যাম্পাসে রাজনীতি ছিল, তখন সমস্যাটা বেশি ছিল, রাজনৈতিক সুবিধা ও প্রভাব দেখিয়ে আমাদেরকে বঞ্চিত করা হতো। তবে এখন সেই ব্যাপারগুলো নেই বলে বর্তমানে আমাদের ন্যায্য পাওনাটুকু পাচ্ছি ঠিকমতোই। যার ফলে সার্বিক বিবেচনায় আমরা ভালো আছি আগের থেকে।"

স্টেশনারির পরিচালক মো. কামরুল হাসান জানান, শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণে তারা সচেষ্ট। তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন মেটাতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সরবরাহ করতে পারি। তবে অনেকসময় স্টক শেষ হয়ে যাওয়ায় আমরা তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো দিতে পারিনা, তবে আমরা সেটি দ্রুতসময়েই জোগাড় করে এনে দেয়ার চেষ্টা করি। আর কোনো জিনিস আমাদের কাছে না থাকলে আমি সেটি সোর্সিং করে দ্রুতসময়ে স্টেশনারিতে এনে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।"

স্টেশনারি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পূর্বে পরিকল্পনা হয়েছিল যে বর্তমান স্টেশনারিটি স্থানান্তর করে আরো বেশি জায়গা নিয়ে নতুন ক্যান্টিনের পিছনে স্থাপন করবে। আর এখনকার স্টেশনারিটির জায়গাটি উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নতুন ক্যান্টিন স্থাপনের পর পিছনের জায়গাটি অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাছাড়াও আরো কিছু কারণ রয়েছে, যার ফলে স্টেশনারির কাজটি আর এগোয়নি।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ মোঃ মামুন কবীর বলেন, "পূর্বে স্টেশনারিটি স্থান পরিবর্তন করে বুটেক্সের ক্যান্টিনের সামনে ফাকা স্থানে আনার পরিকল্পনা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বে যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকটসহ বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর কারণে সরকার থেকে ইতিপূর্বে যে বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছিল তার ৫০ শতাংশই ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। আর সংকটময় পরিস্থিতির কারণে নতুন কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে বাধ্যতামূলকভাবে সরকার থেকে অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু এই পরিকল্পনায় বরাদ্দকৃত বাজেটের অর্ধশতাংশই ফিরিয়ে নেয়ায় আমরা চাইলেও এটি বাস্তবায়ন করতে পারছিনা।"

ভবিষ্যতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, "উক্ত পরিস্থিতির কারণে স্টেশনারি সম্প্রসারণের কাজটি এখন আপাতত বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও সামনের দিনগুলোতে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে যথেষ্ট বাজেট বরাদ্দ পেলেই আমরা এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।"

সার্বিকভাবে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, স্টেশনারির সেবার মান উন্নয়নে জায়গা বৃদ্ধি, জনবল বাড়ানো এবং অপারেটরের সংখ্যা বৃদ্ধি জরুরি। এতে কম সময়ে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থী সেবা পেতে পারবেন এবং স্টেশনারির কার্যক্রমও আরও কার্যকর হবে।

Link copied!