সোমবার ২৭, এপ্রিল ২০২৬

সোমবার ২৭, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

কালিগঞ্জে সার-ধান বাজারে অনিয়মে ৭৫ কোটি ক্ষতির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় সার ও ধান বাজারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হলেও সার সংকট, অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় প্রান্তিক কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সার সরবরাহে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে। এতে প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে প্রায় ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। উপজেলার মোট আবাদি জমির হিসেবে এতে প্রায় ২৭ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত অর্থ কৃষকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, সরকার নির্ধারিত ধানের মূল্য কেজি প্রতি ৩৬ টাকা হলেও কৃষকরা বাধ্য হয়ে ২৫-২৬ টাকায় ধান বিক্রি করছেন। ফলে আরও প্রায় ৪৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে প্রায় ৭,২৫৮ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে, যা বিঘায় প্রায় ৫৪ হাজারের বেশি। প্রতি বিঘায় গড়ে প্রায় ৮৮০ কেজি ধান উৎপাদন হলেও বাজার ব্যবস্থাপনার অসামঞ্জস্যের কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মথুরেশপুর ইউনিয়নের কৃষক ফরিদ তরফদার বলেন, “বস্তাপ্রতি ৪০০-৪৫০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হয়েছে। রসিদ চাইলে ডিলাররা নানা অজুহাত দেন। ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, “আমরা মাঠে পরিশ্রম করি, কিন্তু দাম ঠিক করে অন্যরা।” কুশুলিয়া ইউনিয়নের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “সার কিনতে বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে, আবার ধান বিক্রির সময়ও কম দাম পাচ্ছি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ডিলার, সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কৃষকদের দাবি, মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি কম থাকায় তারা সরকারি মূল্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সারের অতিরিক্ত দাম নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি।” অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দীন বলেন, “বাজারে কোনো সংকট নেই। কৃষকরা অতিরঞ্জিতভাবে বিষয়টি তুলে ধরছেন।”

জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, “সরকারি দামে সার বিক্রি ও ধান ক্রয়ের নির্দেশনা রয়েছে। কোনো অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।”

স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে কৃষি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Link copied!