প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক ডরমেটরিতে সঙ্গীত বিভাগের এক কর্মকর্তার সাথে একই বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটককে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের বরাতে জানা যায়, ২৬ এপ্রিল (রবিবার) দিবাগত রাতে শিউলিমালা হল সংলগ্ন সন্ধ্যাতারা ডরমেটরিতে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তা ডেমনেস্ট্রেটোর (তবলা) দীপংকন সেনগুপ্ত এবং একই বিভাগের ১৬ ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান।
পরে শিক্ষার্থীরা তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। নারী শিক্ষার্থী সেখানে কীভাবে ও কেন উপস্থিত ছিলেন—এ প্রশ্নে অভিযুক্ত কর্মকর্তা জানান, ‘তাকে তবলা বাজানো শেখাতে নিয়ে আসা হয়েছে।’ পরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে প্রক্টর ও কয়েকজন শিক্ষকের উপস্থিতিতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে লিখিত নিয়ে নারী শিক্ষার্থীকে শিউলিমালা হলে হেফাজতে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং শিক্ষার্থীর একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যাম্পাসে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত অনৈতিকতা হিসেবে দেখলেও অনেকে একে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
