প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে গড়ে উঠেছে এক প্রাণবন্ত ক্লাব সংস্কৃতি, যা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বহুমাত্রিক দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শ্রেণিকক্ষের পাঠ্যক্রমের বাইরে সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষেত্রে এসব ক্লাব শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন ধরনের ক্লাব সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বছরজুড়ে এসব ক্লাব সেমিনার, কর্মশালা, প্রতিযোগিতা এবং সামাজিক সচেতনতামূলক নানা আয়োজন করে থাকে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ক্লাবগুলোর ইতিবাচক ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে। গত এক বছরে প্রশাসনের উৎসাহে সহশিক্ষা কার্যক্রমে গতি বেড়েছে এবং নতুন কয়েকটি ক্লাব গড়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্লাব কার্যক্রমে যুক্ত থাকার ফলে তাদের আত্মবিশ্বাস, দলগত কাজের সক্ষমতা এবং নেতৃত্বদানের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, যা ভবিষ্যৎ পেশাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ম্যানেজমেন্ট বিজনেস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক বাদশা সোলেমান জানান, তাদের ক্লাব শিক্ষার্থীদের একাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে। ক্লাবের উদ্যোগে পিঠা উৎসব, “From Campus to Career” সেমিনার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর এবং ম্যানেজমেন্ট ফেস্ট আয়োজন করা হয়েছে।
রাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহেদুল মারুফ বলেন, ডিবেটিং ক্লাব শিক্ষার্থীদের যুক্তি, জ্ঞানচর্চা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি ক্লাবটি ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সাফল্যও বয়ে এনেছে।
ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি শাহরিয়ার রাব্বি তন্ময় জানান, তাদের ক্লাব শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্রস্তুতি ও দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে। সিভি রাইটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, লিংকডইন নেটওয়ার্কিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় ইংরেজি ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিও পরিচালিত হচ্ছে।
ফটোগ্রাফি ক্লাবের আহ্বায়ক মো. ইলিয়াস বলেন, এই ক্লাব শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সহশিক্ষা কার্যক্রমের এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাবিপ্রবি থেকে দক্ষ, সৃজনশীল এবং নেতৃত্বগুণসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠবে, যারা দেশ ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
