প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৯ এএম
মানুষ তার মস্তিষ্কের মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করে—এমন ধারণা দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় হলেও বিজ্ঞান বলছে, এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। আধুনিক নিউরোসায়েন্সের গবেষণা অনুযায়ী, মানুষের মস্তিষ্কের প্রায় প্রতিটি অংশই প্রতিনিয়ত সক্রিয় থাকে এবং বিভিন্ন কাজে ভূমিকা রাখে।
বিজ্ঞানীরা পিইটি (PET) ও এফএমআরআই (fMRI) প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখেছেন, দৈনন্দিন কাজের সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ একসঙ্গে কাজ করে। কোনো নির্দিষ্ট কাজের সময় কিছু অংশ তুলনামূলক বেশি সক্রিয় থাকলেও অন্য অংশগুলো নিষ্ক্রিয় থাকে না; বরং তারা কম মাত্রায় কাজ চালিয়ে যায়।
মস্তিষ্কের স্ক্যানচিত্রে উজ্জ্বল অংশগুলো দেখে অনেকেই মনে করেন, কেবল ওই অংশগুলোই সক্রিয়। বাস্তবে এসব উজ্জ্বলতা শুধু বেশি সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়, নিষ্ক্রিয়তার নয়। যদি সত্যিই মানুষ মস্তিষ্কের মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করত, তবে বাকি অংশে ক্ষতি হলেও তেমন প্রভাব পড়ার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, মস্তিষ্কের অল্প অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কথা বলা, চিন্তা করা বা চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে ব্রোকাস এরিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভাষা প্রকাশের ক্ষমতা হারানোর বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
মানবদেহের মোট ওজনের প্রায় ২ শতাংশ হলেও মস্তিষ্ক শরীরের মোট শক্তির ২০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করে। বিবর্তনের দৃষ্টিকোণ থেকে অপ্রয়োজনীয় কোনো অঙ্গ এত শক্তি ব্যয় করে টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই।
এই ভ্রান্ত ধারণার উৎপত্তি নিয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও কিছু ঐতিহাসিক সূত্র উল্লেখ করা হয়। ১৯৩৬ সালে ডেল কার্নেগির ‘হাউ টু উইন ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্স পিপল’ বইয়ের ভূমিকায় মানুষের সম্ভাবনার রূপক হিসেবে ‘১০ শতাংশ’ ধারণাটি ব্যবহৃত হয়েছিল। পাশাপাশি ১৯৩০-এর দশকে নিউরোসার্জন ওয়াইল্ডার পেনফিল্ড মস্তিষ্কের কিছু অংশে সরাসরি উদ্দীপনা প্রয়োগ করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না পেয়ে সেগুলোকে ‘সাইলেন্ট এরিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে আধুনিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, এসব অংশও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।
বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ তার মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ অংশই ব্যবহার করে। তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষের শেখার বা বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধির সীমা নেই। বরং বুদ্ধিমত্তা নির্ভর করে মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর সংযোগ ও কার্যকারিতার ওপর, অব্যবহৃত কোনো অংশের ওপর নয়।
