শুক্রবার ১৭, এপ্রিল ২০২৬

শুক্রবার ১৭, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

শিশুস্বাস্থ্যে নতুন শঙ্কা: হামের পাশাপাশি বাড়ছে রুবেলার ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৭ এএম

ফাইল ফটো

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই শিশুস্বাস্থ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে আরেকটি সংক্রামক রোগ—রুবেলা। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি ‘জার্মান মিসেলস’ নামেও পরিচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের তুলনায় তুলনামূলক মৃদু উপসর্গ থাকলেও রুবেলা অবহেলা করার মতো নয়, বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে।

রুবেলা একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি-হাঁচির মাধ্যমে সহজেই ছড়ায়। এছাড়া গর্ভবতী মায়ের শরীর থেকে গর্ভফুলের মাধ্যমে অনাগত সন্তানের মধ্যেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির সর্দি, কাশি, রক্ত ও মলমূত্রে ভাইরাসের উপস্থিতি থাকায় এটি দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম। বিশেষ করে ঘিঞ্জি পরিবেশ ও স্কুলে শিশুদের মধ্যে এর বিস্তার বেশি দেখা যায়।

রোগটির লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে প্রকাশ পায়। শুরুতে সর্দি-কাশি বা জ্বর নাও থাকতে পারে, তবে গলার পাশ ও কানের পেছনের লিম্ফ গ্রন্থি ফুলে যাওয়া ও ব্যথা হতে পারে। এর পরপরই শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয়, যা মুখ থেকে শুরু হয়ে দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত তিন দিনের মধ্যে এই র‍্যাশ মিলিয়ে যায়, যদিও সামান্য চুলকানি থাকতে পারে।

তবে বড় শিশুদের ক্ষেত্রে কিছু জটিল লক্ষণ যেমন পেটের সমস্যা বা রক্তপাত দেখা দিতে পারে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে রুবেলা সংক্রমণ হলে গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

চিকিৎসকদের মতে, রুবেলার নির্দিষ্ট কোনো প্রতিকার নেই; মূলত উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসাই দেওয়া হয়। জ্বর নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যদি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

রোগ প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। ১৫ মাস বয়স থেকে শিশুদের এমএমআর (মিজেলস, মাম্পস, রুবেলা) টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা প্রায় ৯৮ শতাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর। এছাড়া সন্তান ধারণে সক্ষম নারীদের টিকা নেওয়ার পর অন্তত তিন মাস গর্ভধারণ এড়িয়ে চলার নির্দেশনা রয়েছে। তবে গর্ভাবস্থায় এই টিকা নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের পাশাপাশি রুবেলার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে শিশুদের বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

Link copied!