প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৮ এএম
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় দেশটির উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদির-এর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মশক্তির গতিশীলতার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মালয়েশিয়ার সমাজে তাদের একীভূতকরণ উন্নত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৈঠকে উভয় পক্ষ শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
বৈঠকে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেটকে স্বীকৃতি দেয় এবং নতুন নীতিমালার আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি জানায়।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানবসম্পদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তিনি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ বাড়ানো এবং একটি সুসংগঠিত বৃত্তি ব্যবস্থার ওপর জোর দেন, যা শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক একীকরণ নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অংশীদারিত্ব জোরদার, একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং যৌথ শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জবাবে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদির এসব প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১১ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে, যাদের অনেকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। উভয় পক্ষই এই শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও আর্থ-সামাজিক অবদানকে গুরুত্বের সঙ্গে স্বীকার করে।
এছাড়া আলোচনায় শিক্ষার্থীদের পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে তারা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
