প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
মৌসুম পরিবর্তনের সময় রোগবালাই বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা নতুন নয়। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের প্রথম কয়েক সপ্তাহে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, এ সময় শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে ভাইরাস ও সংক্রমণ সহজেই আক্রমণ করতে পারে।
তাপমাত্রার ওঠানামা, বাতাসের আর্দ্রতা ও চাপের পরিবর্তনের কারণে শরীরের মিউকাস মেমব্রেন দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে দৈনন্দিন রুটিন, খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের পরিবর্তনও এ সময় শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং যাদের হাঁপানি, ডায়াবেটিস বা রোগপ্রতিরোধক্ষমতা কম, তারা এ সময় বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
মৌসুমি রোগের সাধারণ লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে ক্লান্তি, ঘন ঘন হাঁচি, ত্বকের শুষ্কতা, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, অনিদ্রা ও পেটের সমস্যা। এসব লক্ষণ তীব্র হওয়ার আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিছু প্রস্তুতি জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। নিয়মিত ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, ভিটামিন সি ও এ–সমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি গ্রহণ, পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি ও জিংক গ্রহণ—এসব শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। পাশাপাশি আদা, হলুদ, রসুন কিংবা ভেষজ চা খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম বা হাঁটা এবং পর্যাপ্ত পানি পান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করাও জরুরি।
এ ছাড়া আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক পরা, নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাঁপানি রোগীদের জন্য পোষা প্রাণীর লোম এড়িয়ে চলা, কার্পেট ব্যবহার সীমিত রাখা এবং বিছানার চাদর নিয়মিত পরিবর্তন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য সচেতনতা ও প্রস্তুতি মৌসুমি রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
