প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৫ এএম
ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ‘টেক্সট নেক’ নামে পরিচিত একটি শারীরিক সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোন, ট্যাব বা কম্পিউটার দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে ব্যবহার করার কারণে ঘাড়ে ব্যথা এখন সাধারণ হলেও তা উপেক্ষা করার মতো নয়।
চিকিৎসকদের মতে, স্বাভাবিক অবস্থায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মাথার ওজন প্রায় ৪ থেকে ৫ কেজি। তবে মাথা সামনে ঝুঁকিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকালে এই চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ৪৫ থেকে ৬০ ডিগ্রি কোণে মাথা ঝুঁকলে ঘাড়ের ওপর কার্যকর চাপ ২০ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে ঘাড়ের পেশি, লিগামেন্ট ও জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, পেশিতে টান, কাঁধ ও পিঠে জ্বালাপোড়া এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে সারভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস, স্নায়ুতে চাপ বা হাড়ের অতিরিক্ত বৃদ্ধি (অস্টিওফাইট) তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
? সাধারণ লক্ষণ
এই সমস্যার ক্ষেত্রে ঘাড়ে স্থায়ী ব্যথা, কাঁধ ও পিঠে অস্বস্তি, মাথার পেছনে ব্যথা, হাতে ঝিনঝিন বা অবশভাব এবং সামনে ঝুঁকে থাকা ভঙ্গি লক্ষ করা যায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
? প্রতিরোধে করণীয়
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডিভাইস ব্যবহারের সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুঠোফোন চোখের সমতলে ধরে ব্যবহার করা এবং কম্পিউটারের স্ক্রিন চোখের সমান উচ্চতায় রাখা উচিত। পাশাপাশি ২০ থেকে ৩০ মিনিট পরপর বিরতি নিয়ে ঘাড় ও কাঁধ নড়াচড়া করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া এরগোনমিক চেয়ার ব্যবহার, স্ক্রিন টাইম কমানো এবং নিয়মিত ব্যায়াম এই সমস্যা প্রতিরোধে সহায়ক। ঘাড় ও কাঁধের পেশি শক্তিশালী করতে নিয়মিত অনুশীলনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
? চিকিৎসা
ঘাড়ে ব্যথা শুরু হলে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশ্রাম, গরম সেঁক এবং কাজের ধরনে পরিবর্তন প্রাথমিকভাবে উপকার দিতে পারে। ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে সঠিক ভঙ্গি প্রশিক্ষণ, স্ট্রেচিং ও শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও কার্যকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শুধু ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভর না করে সমস্যার মূল কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
