শুক্রবার ০৩, এপ্রিল ২০২৬

শুক্রবার ০৩, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

যেমন চলছে গাজার শিক্ষা

সায়ফুল হক সিরাজী

প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

শিক্ষার্থীরা কোথাও অস্থায়ী তাঁবু, কোথাও খোলা জায়গায় সীমিত পরিসরে পড়াশোনা করার চেষ্টা করছে

গাজা স্ট্রিপ -জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা স্ট্রীপ অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসের মুখে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি শিশুদের শিক্ষাজীবনের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। প্রায় ৬০% স্কুল-যুগী শিশু এখনও ব্যক্তিগত শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা পাচ্ছে না, এবং বড় এক প্রজন্মের শিক্ষা ক্ষতি হচ্ছে- যা ভবিষ্যতে গাজার সমাজ ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৯৭ শতাংশ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ৬.৫ লাখেরও বেশি স্কুল-যুগী শিশু দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে যেতে পারছে না।

শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন

ইউনিসেফ জানিয়েছে, অনেক স্কুল ভবন এখন বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে ক্লাসরুমে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা কোথাও অস্থায়ী তাঁবু, কোথাও খোলা জায়গায় সীমিত পরিসরে পড়াশোনা করার চেষ্টা করছে।

অস্থায়ী উদ্যোগে শিক্ষার চেষ্টা

সংকটের মধ্যেও ইউনিসেফ ও অংশীদার সংস্থাগুলো “Back to Learning” কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এ উদ্যোগের আওতায় অস্থায়ী শেখার কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে হাজারো শিশু সীমিতভাবে বেসিক শিক্ষা গ্রহণ করছে।

শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সংগ্রাম

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অনেক শিশু শুধু শিক্ষা নয়, বরং খাদ্য, নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর জন্যও সংগ্রাম করছে। মানসিক চাপ, অনিশ্চয়তা ও বাস্তুচ্যুতি তাদের পড়াশোনায় মনোযোগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

ইউনিসেফ সতর্ক করেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে একটি পুরো প্রজন্মের শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে আনা এখন জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইউনিসেফ এর এই প্রতিবেদন গাজায় শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটকে একটি গুরুতর মানবিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছে। যুদ্ধ ও ধ্বংসের মধ্যেও সীমিত সম্পদ নিয়ে শিশুদের শিক্ষার চেষ্টাকে মানবিক সহনশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখা হলেও, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।

গাজার শিক্ষা ব্যবস্থা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত ও বোমাবর্ষণের ফলে “ধ্বংসের কিনারায়” পৌঁছেছে।প্রায় ৯৭% স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ৬৫৮০০০ এর বেশি স্কুল-যুগী শিশু দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত ক্লাসে যেতে পারেনি।এতে বলা হয়েছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বা বড় সংস্কারের প্রয়োজন- যা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

শিক্ষা কার্যক্রমে বিরতি ও সীমাবদ্ধতা

ইউনিসেফ এর তথ্য অনুযায়ী,বেশিরভাগ শিশু ক্লাসে যেতে পারছে না এবং অনেকেই দীর্ঘসময় ধরে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন।যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে শিক্ষা উপকরণ, বই-খাতা, পেন্সিল ইত্যাদি প্রায় দুই বছর জমে পড়ে ছিল, এবং ইউনিসেফ এর পক্ষ থেকে তা বাধাপ্রাপ্ত ছিল-পরে কিছু সামগ্রী প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে।

অস্থায়ী শিক্ষা কেন্দ্র

ইউনিসেফ বর্তমানে কিছু অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র চালু করেছে যেখানে শিশুদের বেসিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।প্রায় 78টি শেখার কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রায় 109,310 শিশু (যাদের অর্ধেকের বেশি মেয়েরা) অ-সরকারি শিক্ষা পাচ্ছে।এই কেন্দ্রগুলোতে সপ্তাহে কয়েকদিন পাঠদান হয় এবং খেলাধুলা, মানসিক স্বাস্থ্যের সহায়তা ও পুনরুদ্ধারের জন্য কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য স্টেশনারি কিট, ব্যাকপ্যাক এবং শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের চেষ্টা করছে ইউনিসেফ।

শিক্ষা পুনরুদ্ধার ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য

ইউনিসেফ এর পরিকল্পনা অনুসারে,Back to Learning (পড়াশোনায় ফেরানো) প্রোগ্রামটি 2026 সালের মধ্যে 336,000 শিক্ষার্থীর কাছে শিক্ষা ফেরানো লক্ষ্য করছে, এবং 2027-এ সমস্ত স্কুল-যুগী শিশুকে পুনরায় শ্রেণিকক্ষে ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনিসেফ উল্লেখ করেছে যে শিক্ষা শুধু পড়াশোনা নয় - এটি শিশুদের মানসিক ও সামাজিক পুনরুদ্ধারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শিশুদের শিক্ষা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি মানসিক সহায়তা ও নিরাপদ শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করা ইউনিসেফ এর অগ্রাধিকার।

 

Link copied!