প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় সামান্য বৃষ্টিতেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। পানিনিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এ সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে ‘ঝিনাইগাতী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’।
উপজেলার সদর ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৩৮ সালে ৫৬ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে একটি পরিত্যক্ত ভবনসহ মোট চারটি ভবন রয়েছে। বিদ্যালয়ে ২২৭ জন শিক্ষার্থী ও ৯ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে ভালো ফলাফল থাকা সত্ত্বেও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
সরেজমিনে বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে দেখা যায়, ভোরের সামান্য বৃষ্টিপাতেই বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে গেছে। শিক্ষার্থীরা সেই পানি মাড়িয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করছে। কোথাও কোথাও শ্রেণিকক্ষেও পানি ঢুকে পড়ায় বেঞ্চে বসে পানির মধ্যেই পাঠদান কার্যক্রম চালাতে দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, মাঠে পানি জমে থাকায় তারা নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারে না। জলাবদ্ধতার কারণে শ্রেণিকক্ষে মশার উপদ্রবও বেড়ে যায় এবং এক ভবন থেকে অন্য ভবনে যাতায়াত ব্যাহত হয়। অনেক সময় বিদ্যালয় থেকে মূল সড়কে যাতায়াতও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, উপজেলা সদরের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও এখানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মনোয়ারা বেগম বলেন, “পানিনিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি কমে যায় এবং পানি বাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে।” তিনি জানান, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও এখনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।
তিনি আরও বলেন, “শুধু মাঠে মাটি ভরাট করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এতে শ্রেণিকক্ষ তুলনামূলক নিচু হয়ে পড়বে এবং বৃষ্টির পানি ভেতরে ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। তাই সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে মাঠ ভরাটের পাশাপাশি একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ জরুরি।”
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফারহানা পারভীন জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন বলেন, সমস্যাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
