সানজানা শওকত,বুটেক্স প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
মঙ্গলবার ২১, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
ইফতার মাহফিল স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও আন্তরিকতার আবহে জি.এম.এ.জি ওসমানী হল ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জি.এম.এ.জি ওসমানী হল মাঠে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জি.এম.এ.জি ওসমানী হল মাঠে এ আয়োজনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন, জি.এম.এ.জি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট মো. মোতাকাব্বির হাসান, সহকারী প্রভোস্ট ফরহাদ আহমেদ এবং ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মো. হাসিব উজ জামান।
বিকেল থেকেই হল প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ করা যায়। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত ও পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের সফলতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মাগরিবের আযানের সাথে সাথে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একত্রে ইফতার করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এমন উৎসবমুখর আয়োজন নিয়ে জি.এম.এ.জি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের ওসমানী হল থেকে প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। সবাই একসঙ্গে ইফতার উপভোগ করছেন। একসাথে ইফতার করার এই মুহূর্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক অভিনব আনন্দ ও আন্তরিকতার অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. মোতাকাব্বির হাসান তমাল বলেন, রমজান মাস মূলত ত্যাগের মাস। ইফতারের সময় সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, এখানে বিভিন্ন ব্যচের ছোট বড় সকলে মিলেমিশে একসঙ্গে বসে ইফতার করি। সেই সমতার অনুভূতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি, যেন এই সমতার শিক্ষা সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুনিয়ার জীবন সহজ হয় এবং আখিরাতের জীবনও সমৃদ্ধ হয়। এটিই আমাদের মূল উদ্দেশ্য এবং চাওয়া।
ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের ওসমানী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী কিশোর সাহা বলেন, আমি একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী। আজকে ইসলাম ধর্মালম্বীদের রমজান মাস উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে আমি যোগদান করেছি। ধর্ম ও ধর্মীয় রীতিনীতি আলাদা হলেও সম্পর্ক, সম্মান ও ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় পরিচয়। ১৮৯৩ সালে World's Parliament of Religions-এ "স্বামী বিবেকানন্দ" বিখ্যাত বক্তৃতায় তিনি বলেন, “যে নিজের ধর্মকে ভালোবাসে, সে অন্য ধর্মকে ঘৃণা করে না।” বাংলাদেশের সৌন্দর্য আমাদের ধর্মীয় সম্প্রীতিতে। এটাই হোক শান্তি ও সহাবস্থানের উদাহরণ।
ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের ওসমানী হল প্রতিনিধি শিবলি সাদিক উৎপল বলেন, সবাইকে পবিত্র মাহে রমজান এর শুভেচ্ছা ।আজ ওসমানী হল এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ও হল প্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই আয়োজন শুধু ইফতার নয়, বরং আমাদের ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক ভালোবাসার এক সুন্দর মিলনমেলা। সিনিয়র জুনিয়র সবার অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিল টি আরও উৎসব মুখর হয়ে উঠেছে। আমি আশা করি, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও আমাদের মধ্যে ঐক্য ও বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।
সার্বিকভাবে, ইফতার মাহফিলটি ছিল সম্প্রীতি, ঐক্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে।