সানজানা শওকত,বুটেক্স প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০০ পিএম
সোমবার ২০, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠন “বুটেক্স ওয়েট প্রসেস ক্লাব” পুনরায় যাত্রা শুরু করেছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্লাবটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়।
অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে দুপুর ৩টায় শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা এবং আইটিইটি'র অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক এহসানুল করিম কায়সার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন, ক্লাবটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইমানা শাহরীন তানিয়া, উপদেষ্টা মো. সোহাগ বাবুসহ ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানটি শিল্প বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে আরও সমৃদ্ধ হয়। মন্ডল গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রণব কুন্ডু টেক্সটাইল প্রিন্টিং বিষয়ে একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা দেন। এছাড়া আরএইচ কর্পোরেশনের নির্বাহী পরিচালক এ.এস.এম. হাফিজুর রহমান নিক্সন ডাইং সেক্টরের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, বাস্তব সমস্যা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন।
অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের ক্লাব শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণায় সম্পৃক্ততা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. মো. জুলহাস উদ্দিন একাডেমিক ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে দৃঢ় সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “শুধু ক্লাসরুমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব শিল্পক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।” পাশাপাশি দেশ-বিদেশের অ্যালামনাই ও পেশাগত নেটওয়ার্কের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংযুক্ত করার আশ্বাস দেন তিনি।
আইটিইটি'র আহ্বায়ক প্রকৌশলী এহসানুল করিম কায়সার বলেন, ”টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের একটি সমস্যা হলো আমরা দ্রুত চাকরি বদলাই। শিখতে হলে একটি ইন্ডাস্ট্রিতে অন্তত ৩–৫ বছর থাকা প্রয়োজন। ইন্ডাস্ট্রির সাথে ভালো যোগাযোগ তৈরি করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাবের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রির সাথে যুক্ত থাকলে শেখার সুযোগ বাড়ে।”
ক্লাবের উপদেষ্টা মো. সোহাগ বাবু বলেন, “ওয়েট প্রসেস বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই ক্লাবটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন করা হবে। আধুনিক ওয়েট প্রসেস প্রযুক্তি ও গবেষণা বিষয়ে প্রতি মাসে অন্তত একটি সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।“
ক্লাবের সভাপতি উৎস করণ বলেন, “শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই এমন একটি প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতাম। নানা সীমাবদ্ধতায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এখন সেটি বাস্তবে রূপ নিতে দেখে ভালো লাগছে।”
সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ আহম্মেদ বলেন, “আমরা চাই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার ও গবেষণামুখী কাজে আরও উদ্বুদ্ধ হোক। ক্লাবের মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি করা হবে। বিভাগের প্রধান ইভেন্ট ‘রিজেনারেশন’ পুনরায় আয়োজনের পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রাণবন্ত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।