প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ০১:১৩ এএম
আজকের সময়ে মোবাইল ফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম প্রয়োজনীয় অংশ। তবে অনেক সময় দেখা যায়, নামাজের মধ্যে কারও মোবাইল ফোন বাজতে শুরু করে। এতে শুধু ব্যক্তির নিজের মনোযোগই নষ্ট হয় না, বরং ইমাম ও জামাতের খুশুও ভঙ্গ হতে পারে। তাই প্রশ্ন ওঠে—এ অবস্থায় মোবাইল বন্ধ করলে কি নামাজ ভেঙে যাবে?
ইসলামি শরিয়াহতে নামাজের ভেতরে প্রয়োজনীয় ও অল্প পরিমাণ নড়াচড়া করার অনুমতি রয়েছে, যদি তা ইবাদতের মূল কাঠামো নষ্ট না করে। হাদিসে রয়েছে, সাহাবিরা সেজদার স্থানে কাঁকর সরিয়ে দিতেন, যা হালকা কাজ হিসেবে বৈধ ধরা হয় (সহিহ মুসলিম ৫৪৬)। ইমাম নববি (রহ.) ব্যাখ্যা করেন, অল্প কাজ ইবাদতের স্বভাব নষ্ট না করলে তা নামাজের জন্য ক্ষতিকর নয়।
তাই নামাজের ভেতর মোবাইল সাইলেন্ট করা বা রিং বন্ধ করা শরিয়তসম্মত। কারণ এটি অপ্রয়োজনীয় কাজ নয়; বরং অন্যদের মনোযোগ রক্ষা করার একটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
কোরআনে বলা হয়েছে, মুমিনরা সফল যারা গভীর বিনয় ও মনোযোগ নিয়ে নামাজ আদায় করে (সুরা মুমিনুন ১–২)। ইবনে কাসির বলেন, খুশু হলো এমন মনোযোগ যা মানুষকে বাইরের বিষয় থেকে দূরে রাখে। ফলে কারও ফোন বাজলে এবং সে তা বন্ধ না করলে অন্যদের ইবাদত ব্যাহত হয়, যা ইসলামে নিরুৎসাহিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, অন্যের নামাজে বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত নিন্দনীয় (সহিহ বুখারি ৬৭৫)। ইমাম ইবনে হাজারের মতে, যে কাজ অন্যের খুশু নষ্ট করে তা নামাজের আদববিরুদ্ধ।
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী নামাজে অল্প নড়াচড়া—যেমন হাতে মোবাইল বন্ধ করা—প্রয়োজন হলে নামাজ নষ্ট হয় না। শাফেয়ি ও হাম্বলি মতেও এটি গ্রহণযোগ্য, তবে অপ্রয়োজনে করলে মাকরূহ।
তাই নামাজ শুরুর আগে মোবাইল সাইলেন্ট বা ভাইব্রেটে রাখা দায়িত্বশীলতার পরিচায়ক। আর নামাজ চলাকালে ফোন বাজলে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাত বা আঙুল নড়াচড়া করে সেটি বন্ধ করা জায়েজ। অন্যের মোবাইল বাজলে ইশারা করে জানানো ঠিক নয়, এতে নিজের নামাজ ব্যাহত হতে পারে।
ইসলাম ছোটখাটো বিষয়েও সৌন্দর্য, শৃঙ্খলা ও বিবেচনার শিক্ষা দেয়। প্রযুক্তি ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়, বরং তা নিয়ন্ত্রিত ও সচেতনভাবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নামাজের মধ্যে মোবাইল বেজে উঠলে আতঙ্কিত না হয়ে ধীরস্থিরভাবে তা বন্ধ করাই উত্তম এবং শরিয়তসম্মত।
