বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬

বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

নভোচারীর উপলব্ধিতে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬, ০২:১২ পিএম

ফাইল ফটো

মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখার অভিজ্ঞতা অনেক নভোচারীর চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি আমূল বদলে দেয়। এমনই এক গভীর উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন নাসার সাবেক নভোচারী Ron Garan। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে টানা ১৭৮ দিন কাটানোর পর তিনি পৃথিবী, মানবসভ্যতা এবং আমাদের সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে এক ভিন্ন উপলব্ধি লাভ করেন।

২০১১ সালের ৪ এপ্রিল মহাকাশযাত্রা শুরু করে একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীতে ফিরে আসেন গারান। এই সময়ের মধ্যে তিনি প্রায় তিন হাজারবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন। মহাকাশ স্টেশনের জানালা দিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, আমাদের গ্রহটি যতটা সুন্দর এবং সংবেদনশীল, আমরা ততটা যত্ন নিয়ে এটিকে পরিচালনা করছি না।

তার মতে, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা একটি ভুল ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। মানুষ সাধারণত মনে করে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যবহারের বস্তু। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টো। প্রকৃতি ও গ্রহের সুস্থতা নিশ্চিত করেই অর্থনীতি টিকে থাকতে পারে। তাই আমাদের চিন্তাভাবনার ধারা বদলানো জরুরি। অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার না দিয়ে আগে গ্রহ ও সমাজকে গুরুত্ব দিতে হবে, এরপর অর্থনীতিকে সেই কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করতে হবে।

গারান বলেন, মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল, মহাসাগর এবং জীববৈচিত্র্যের সূক্ষ্ম ভারসাম্য খুব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তখন বোঝা যায়, এই গ্রহের জীবনব্যবস্থা কতটা নাজুক এবং পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পৃথিবীতে বসবাসকারী মানুষ প্রায়ই এই বাস্তবতা ভুলে যায় এবং সীমাহীন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহার করে।

এই ধরনের মানসিক পরিবর্তনকে বিজ্ঞানীরা “ওভারভিউ ইফেক্ট” বলে অভিহিত করেন। এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন মহাকাশ গবেষক Frank White ১৯৮৭ সালে। মহাকাশ থেকে পৃথিবী দেখার সময় অনেক নভোচারী গভীরভাবে উপলব্ধি করেন যে মানবজাতি আসলে একটি অভিন্ন পরিবার, যার অস্তিত্ব একই গ্রহের ওপর নির্ভরশীল।

গারানের ভাষায়, মানুষ আসলে মহাকাশের বাইরের কোনো সত্তা নয়। বরং আমরা নিজেরাই মহাকাশের একটি অংশ, যা ধীরে ধীরে নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠছে। তিনি মনে করেন, এই উপলব্ধি পেতে মহাকাশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। পৃথিবীতে থেকেও মানুষ বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করতে পারে, যদি আমরা আমাদের গ্রহ ও মানবসমাজকে নতুনভাবে দেখার চেষ্টা করি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে রন গারান বাংলাদেশ সফরেও এসেছিলেন।

Link copied!