প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
ইতিহাসের পাতায় ১৩ রমজান এক স্মরণীয় দিন। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন যুগান্তকারী ঘটনা এই তারিখে সংঘটিত হয়েছে, যা ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে গেছে।
৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দে ১৫ হিজরির ১৩ রমজান দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবন আল-খাত্তাব (রা.) বিজয়ের পর জেরুসালেমে প্রবেশ করেন। খ্রিষ্টান ধর্মগুরু প্যাট্রিয়ার্ক সোফ্রোনিয়াস তাঁর হাতে নগরীর চাবি তুলে দেন। এই ঐতিহাসিক চুক্তি ‘উমরের আমানত’ নামে পরিচিত। এতে অমুসলিমদের জান-মাল, উপাসনালয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি Church of the Holy Sepulchre-এর ভেতরে নামাজ আদায় থেকে বিরত থাকেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সেটিকে মসজিদে রূপান্তরের দাবি না তোলে। এই সিদ্ধান্ত তাঁর দূরদর্শিতা ও ন্যায়বোধের অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।
১০৮৭ খ্রিষ্টাব্দে ৪৮০ হিজরির একই দিনে সংঘটিত হয় বিখ্যাত যাল্লাকা যুদ্ধ। মুরাবিতুন নেতা ইউসুফ ইবনে তাশফিন আন্দালুসীয় বাহিনী নিয়ে কাস্টিলের রাজা আলফঁসো ষষ্ঠকে পরাজিত করেন। এই বিজয় মুসলিম শক্তিকে সাময়িকভাবে ঐক্যবদ্ধ করে এবং আন্দালুসে মুসলিম শাসনের পতন অন্তত আড়াই শতক বিলম্বিত করে।
১৩৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ৭৯১ হিজরির ১৩ রমজান অটোমান ইতিহাসেও বেদনাময়। কসোভো যুদ্ধে বিজয়ের পর সুলতান মুরাদ প্রথম রণক্ষেত্র পরিদর্শনের সময় এক সার্বীয় সৈন্যের হাতে নিহত হন। তিনি একমাত্র অটোমান সুলতান যিনি যুদ্ধক্ষেত্রে শাহাদত বরণ করেন। তাঁর মৃত্যু বলকান অঞ্চলে অটোমান প্রভাব বিস্তারের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।
১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দে ১২৬৫ হিজরির এই দিনেই মারা যান আধুনিক মিসরের স্থপতি মুহাম্মদ আলি পাশা। তিনি মিসরে আধুনিক সেনাবাহিনী, শিক্ষা ও প্রশাসনিক সংস্কারের ভিত্তি গড়ে তোলেন, যদিও তাঁর কঠোর শাসন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে ৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে ৯৫ হিজরির ১৩ রমজানে উমাইয়া প্রশাসক হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ ইরাকের ওয়াসিতে মৃত্যুবরণ করেন। কঠোর শাসন ও রাজনৈতিক দমননীতির জন্য তিনি ইতিহাসে বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে স্মরণীয়।
এভাবে ১৩ রমজান মুসলিম ইতিহাসে বিজয়, আত্মত্যাগ, সংস্কার ও বিতর্কের এক বহুমাত্রিক দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
