প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
ইতিহাসের দিনপঞ্জিতে ১২ রমজান এক অনন্য তাৎপর্য বহন করে। এই দিনে মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক স্বাধীনতা, জ্ঞানচর্চার শোকাবহ অধ্যায় এবং সামরিক সাফল্যের স্মরণীয় ঘটনাগুলো একসূত্রে গাঁথা হয়ে আছে।
৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে (২৫৪ হিজরি) তুর্কি বংশোদ্ভূত সামরিক নেতা আহমদ ইবনে তুলুন মিসরে গভর্নর হিসেবে প্রবেশ করেন। আব্বাসীয় শাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তিনি স্বায়ত্তশাসনের ভিত গড়ে তোলেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন তুলুনি শাসনব্যবস্থা। তাঁর দক্ষ প্রশাসন ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী মিসরকে আঞ্চলিক শক্তিতে রূপ দেয়। রাজধানী ফুস্তাত ও কায়রোকে তিনি এমনভাবে সাজান, যা তৎকালীন বাগদাদের সঙ্গে তুলনীয় হয়ে ওঠে।
এর ঠিক এক দশক পর, ৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে ১২ রমজানেই কায়রোতে সম্পন্ন হয় ঐতিহাসিক ইবনে তুলুন মসজিদ–এর নির্মাণকাজ। এই স্থাপনা ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রতীক। ইটনির্মিত বিশাল কাঠামো ও পেঁচানো মিনার ইরাকি স্থাপত্যরীতির স্মারক হিসেবে আজও দণ্ডায়মান। জনশ্রুতি আছে, সাধারণ মানুষের করের অর্থ ব্যয় না করে একটি গুপ্তধন আবিষ্কারের অর্থ দিয়েই তিনি মসজিদ নির্মাণ করেন।
১২০১ খ্রিষ্টাব্দে (৫৯৭ হিজরি) একই দিনে ইন্তেকাল করেন প্রখ্যাত আলেম ও ইতিহাসবিদ ইবনে জাওজি। তিনি প্রায় তিন শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন, যার মধ্যে ‘আল-মুনতাজাম’ ইতিহাসচর্চায় বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে। তাঁর জানাজার দিন বাগদাদের বাজার বন্ধ হয়ে যায়; লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। তাঁকে দাফন করা হয় ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল–এর কবরের পাশে।
এছাড়া ১২৬৮ খ্রিষ্টাব্দে (৬৬৬ হিজরি) মামলুক সুলতান জহির বাইবার্স ক্রুসেডারদের কাছ থেকে আন্তাকিয়া দখল করে মুসলিম শাসনের অন্তর্ভুক্ত করেন। দীর্ঘ প্রায় ১৭০ বছর পর এই বিজয় ছিল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা হিত্তিন যুদ্ধের পর মুসলিম শক্তির আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
এভাবেই ১২ রমজান ইতিহাসে স্বাধীনতার ঘোষণা, জ্ঞানের বিদায়বেলা এবং বিজয়ের গৌরবময় স্মৃতি একত্রে ধারণ করে আছে।
