প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জীবনে আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের এক অনন্য প্রশিক্ষণপর্ব। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ মাসে ইবাদতের গুরুত্ব ও মর্যাদা বহুগুণ বেড়ে যায়। রোজা শুধু উপবাস নয়; এটি মানুষের ভেতরের খারাপ প্রবৃত্তি দমন, হৃদয় পরিশুদ্ধ করা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক বিশেষ মাধ্যম।
পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারা-এর ১৮৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে রোজা ফরজ করা হয়েছে যেন মানুষ তাকওয়া অর্জন করতে পারে। তাকওয়ার অর্থ হলো আল্লাহভীতি অর্জন এবং প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করা। তাই রোজাদারের দায়িত্ব শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়, বরং কথা, আচরণ ও চিন্তায়ও সংযমী হওয়া।
রমজানে ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল ইবাদত বাড়ানোর বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সহিহ বুখারি-এর এক হাদিসে বর্ণিত আছে, বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে থাকে, এমনকি আল্লাহ তাকে নিজের প্রিয় বান্দা বানিয়ে নেন। এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, যা মুমিনের হৃদয়কে আরও কোমল ও আলোকিত করে।
সংযমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ। সুনানে তিরমিজি-তে বর্ণিত আছে, মানুষ যেন পেট ভরে না খায়; বরং খাবার, পানি ও শ্বাসের জন্য আলাদা অংশ রাখে। অতিরিক্ত ভোজন মানুষকে অলস ও গাফেল করে তোলে, অথচ সংযম চিন্তা, জিকির ও আত্মবিশ্লেষণে সহায়ক।
রোজা মানুষকে সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অভিজ্ঞতা দরিদ্র মানুষের কষ্ট উপলব্ধিতে সাহায্য করে। ফলে দান-সদকা ও মানবসেবার মানসিকতা জাগ্রত হয়।
এ ছাড়া সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) যুবকদের রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, যা প্রবৃত্তি দমনে কার্যকর। এতে বোঝা যায়, রোজা মানুষের নফস নিয়ন্ত্রণের এক শক্তিশালী উপায়।
রমজান তাই কেবল একটি মাস নয়; এটি সারা জীবনের জন্য আত্মসংযম, তাকওয়া ও নৈতিক উন্নতির প্রশিক্ষণ। এই সাধনার মাধ্যমে মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার পথ খুঁজে পায়।
