প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় দুই পক্ষের বিরোধের জেরে সংঘর্ষে সাদ্দাম হোসেন (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। প্রতিপক্ষের ছোড়া টেঁটা তাঁর বুকে বিদ্ধ হলে গুরুতর আহত হন তিনি। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার খাতে সালেঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাদ্দাম ওই গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি অটোরিকশা চালাতেন।
মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাতে সালেঙ্গা গ্রামের জামাল মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী হক্কা মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। জামাল মিয়ার মেয়ের সঙ্গে হক্কা মিয়ার ছেলের প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগে চার-পাঁচ মাস আগে তাঁদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন জামাল মিয়া। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়।
সম্প্রতি জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ তোলেন হক্কা মিয়া ও তাঁর লোকজন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যায় এ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ঝগড়া শুরু হলে স্থানীয় লোকজন তাঁদের থামিয়ে দেন।
রাতে সংঘর্ষ, টেঁটার আঘাতে মৃত্যু
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সন্ধ্যার বিরোধের জেরে রাত ৯টার দিকে জামাল মিয়া ও তাঁর পক্ষের লোকজন হক্কা মিয়া ও তাঁর লোকজনের ওপর হামলা চালান। এ সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া টেঁটা বুকে বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন হক্কা মিয়ার চাচাতো ভাই সাদ্দাম হোসেন।
এ ঘটনায় সাদ্দামের আরেক চাচাতো ভাই দূরবীন মিয়া, আজাহার উদ্দিন ও হাদিস মিয়াও আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদ্দাম হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য তিনজন ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক এম এস এস মাটি বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই বুকে টেঁটা বিদ্ধ হয়ে সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যু হয়েছে।
মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় হামলার অভিযোগ
জামাল মিয়া ও তাঁর লোকজন মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন আহত দূরবীন মিয়া। তাঁর দাবি, এসব কাজে বাধা দেওয়ায় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিপক্ষের টেঁটার আঘাতে তাঁর চাচাতো ভাই সাদ্দাম নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন তিনি।
তবে মাদক কারবারের অভিযোগ ও হামলার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান
ঘটনার পর জামাল মিয়া ও তাঁর পক্ষের লোকজন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আক্কেব আলী নামের একজনকে থানায় আনা হয়েছে।
