প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। ইউনিটটির পারমাণবিক বিক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ভৌত পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে পরবর্তী ধাপের কাজ শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। এ পর্যায়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কেন্দ্রটির নিরাপদ ও স্থিতিশীল কার্যক্রম যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র জানায়, ভৌত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে পরবর্তী ধাপ শুরুর অনুমতি দেয় বায়েরা। এ ধাপকে ‘পাওয়ার স্টার্ট’ বা ‘সি-স্টেজ’ বলা হয়। এতে চুল্লি, শীতলীকরণ ব্যবস্থা, টারবাইন, জেনারেটর, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। পর্যায়ক্রমে চুল্লির ক্ষমতা বাড়িয়ে প্রতিটি ব্যবস্থার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এ পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা এবং স্থিতিশীলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা যাচাই করা।
নিরাপত্তা পরীক্ষার পর শুরু হয় পারমাণবিক বিক্রিয়া
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া গত সেপ্টেম্বরে শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তবে নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় কার্যক্রম পিছিয়ে যায়। পরে সমস্যাটির সমাধান করে বায়েরা থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর গত ১১ অক্টোবর পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। আর কেন্দ্রটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে কমিশনের অধীন সরকারি প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)।
রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান প্রথম আলোকে বলেন, আজ বিকেলেই পাওয়ার স্টার্ট বা সি-স্টেজের অনুমোদন দিয়েছে বায়েরা। এ ধাপেও কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষা হবে। শূন্য শক্তি উৎপাদন দিয়ে শুরু হবে। শক্তি উৎপাদন শূন্য থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছালেই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
ধাপে ধাপে বাড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদন
বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ভৌত পরীক্ষার মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লিপাত্রের ভেতরে বিক্রিয়ার আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। রূপপুরের প্রতিটি পর্যায়ের কাজ শুরুর আগে বায়েরার অনুমোদন নিতে হয়।
কেন্দ্রটির সূত্র জানায়, সি-স্টেজে প্রথমে সীমিত পরিসরে তাপশক্তি উৎপাদন করা হবে। এরপর ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানো হবে। এ পর্যায়ের অনুমোদন জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে কেন্দ্রটির প্রথম সংযোগ স্থাপনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। পুরো প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মান, অনুমোদিত পদ্ধতি ও নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান অনুসরণ করা হবে।
যেভাবে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ
পারমাণবিক জ্বালানির বিক্রিয়ায় প্রথমে তাপশক্তি উৎপন্ন হবে। সেই তাপের সাহায্যে পানি থেকে বাষ্প তৈরি করা হবে, যা টারবাইন ঘোরাবে। টারবাইনের সঙ্গে যুক্ত জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ।
চুল্লিতে শক্তি উৎপাদন শুরু হওয়ার পর ধাপে ধাপে তা বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে নেওয়া হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। তখন প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এ সরবরাহ আগামী ডিসেম্বরে শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়ার পর এ প্রক্রিয়া টানা সাত থেকে আট মাস চলতে পারে। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হবে।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছানোর পর রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। জ্বালানি গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশও পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশগুলোর তালিকায় স্থান পায়।
প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ২৬ হাজার কোটি টাকা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের মেয়াদ প্রথমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। পরে দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ নেই। তবে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের ব্যয় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্টের মেয়েদের দল টোয়াইস। তৃতীয় স্থানে আছে বিগহিট মিউজিকের ছেলেদের দল টুমরো এক্স টুগেদার। গত বছর এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল সেভেনটিন। তখন দলটির চেয়ে এগিয়ে ছিল ব্রিটিশ রক ব্যান্ড কোল্ডপ্লে।
সেভেনটিনের ‘নিউ’ ওয়ার্ল্ড ট্যুর শুরু হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচন শহরে। এশিয়া পর্বে দলটি মোট ২২টি কনসার্টে অংশ নেয়। হংকংয়ের কাই তাক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তাদের চারটি কনসার্টের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।
কনসার্টের পাশাপাশি ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের আয়োজনেও সাড়া পেয়েছে ব্যান্ডটি। গত মে মাসে জাপানের কিয়োসেরা ডোম ও টোকিও ডোমে এবং জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচনের আসিয়াদ মেইন স্টেডিয়ামে ভক্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করা হয়। প্লেডিস এন্টারটেইনমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এসব আয়োজনে প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ভক্ত অংশ নেন।
এদিকে, সেভেনটিনের সাব-ইউনিট জংহান ও জশুয়ার ‘জার্নি ইনটু ড্রিমিং’ সফর শুরু হবে আগামী ৩০ অক্টোবর। দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচনে অবস্থিত ইনস্পায়ার অ্যারেনায় ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে সফরের উদ্বোধনী পর্ব। এরপর ছয়টি শহরে পারফর্ম করবে এই জুটি।
