প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেছেন, ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যার বিচার যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করা হবে। হত্যাকারী যে-ই হোক, তার পরিচয় বিবেচনা না করে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার কাছারিপাড়ায় নিহত শাকিল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি শাকিলের শোকাহত বাবা, মা ও স্ত্রীকে সান্ত্বনা দেন এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। এর আগে তিনি শাকিলের কবর জিয়ারত করেন।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
শাকিল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন। তিনি বলেন, ‘আমি পিজি (বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতালে ওকে (শাকিল ইসলাম) দেখতে গিয়েছি। তখন ওর বাবার সাথে আমার কথা হয়। ওর বাবা তখনই আমাকে জানিয়েছিলেন, পুলিশ বেশ গাফিলতি করছে। পুলিশ যদি ওর স্টেটমেন্ট (জবানবন্দি) কালেক্ট (সংগ্রহ) করত, তাহলে আমরা অনেক কিছুই দ্রুত জানতে পারতাম।’
মামলার আসামিদের নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওই সময় আমি শুনলাম, যে বাদী যে নামটা (আসামি) দিয়েছেন, সেই নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা করে মামলা করতে বলা হয়েছে। তখনই ওসির সাথে, এসপির সাথে কথা বলেছি। আমি তাঁদের বলেছি, ইমিডিয়েট (তাৎক্ষণিক) তদন্ত করে কে অপরাধী বের করেন। যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তদন্তে যদি অপরাধী না হয়, তাহলে ফাইনাল রিপোর্ট (তদন্ত প্রতিবেদন) দিয়ে দেবেন। বাদী যে নাম দিয়ে মামলা করেছেন, সেই নাম বাদ দিয়ে মামলা হলে তা ইনলিগ্যাল (অবৈধ) হবে। এটা আপনি করতে পারেন না।’
বাবু হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টানলেন প্রতিমন্ত্রী
নাটোরের আলোচিত বাবু হত্যা মামলার বিচার না হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন ফারজানা শারমিন। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে বনপাড়ার পৌর মেয়র বাবুকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই মামলার বিচার এখনো হয়নি এবং হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের কীভাবে শাস্তির আওতায় আনা যায়, তা নিয়েও কাজ করার কথা জানান তিনি।
উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শাকিল হত্যার বিচার হবে। হতেই হবে। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। এই ঘটনা যেন অন্যদিকে কেউ নিতে না পারে, কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে। যেকোনো মূল্যে শাকিল হত্যার বিচার হবে।’
হামলার ১২ দিন পর মৃত্যু
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি কুপিয়ে গুরুতর আহত হন। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়।
হামলার পর শাকিলের বাবা রবিউল করিম গত ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
