শনিবার ৩১, অক্টোবর ২০২৬

শনিবার ৩১, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

অনুমোদন না মেলায় সেন্ট মার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

অনুমোদন না মেলায় সেন্ট মার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত দিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাহাজমালিকেরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ বা ৬ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। নুনিয়ারছড়া থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। পুরো পথই বঙ্গোপসাগর দিয়ে পাড়ি দিতে হয়।

পর্যটন মৌসুম নিয়ে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ২৫ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগের বছরের শর্তগুলো বহাল রাখা হয়েছিল। সে অনুযায়ী, নভেম্বরে দিনে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসার নিয়ম এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়।

এ নিয়ে পর্যটক, হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক ও জাহাজমালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে ২৭ অক্টোবর আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত নতুন প্রজ্ঞাপনে ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপটিতে যেতে পারবেন বলেও জানানো হয়।

অনুমোদন ও সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়ায় বিলম্ব

সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জাহাজ চলাচল শুরু করতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের পাশাপাশি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে অনুমোদনের এ প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।

এ ছাড়া পর্যটকদের তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যে সফটওয়্যার চালুর কথা, সেটিও এখনো প্রস্তুত হয়নি। এসব কারণে ১ নভেম্বর জাহাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি। তবে ৫ বা ৬ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্ট মার্টিন উন্মুক্ত হচ্ছে—এমন ঘোষণায় দ্বীপের কয়েক হাজার মানুষ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। পর্যটকদের রাতযাপনের ব্যবস্থা করতে ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ প্রস্তুত করা হয়েছিল।

তবে পর্যটকবাহী জাহাজের অনুমোদন না পাওয়ায় ১ নভেম্বর থেকে যাতায়াত শুরু হচ্ছে না। জাহাজ চলাচল শুরুর সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কেউ বলছেন ৫ থেকে ৭ নভেম্বর, আবার কেউ বলছেন ১৫ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে।

নিরাপত্তা যাচাই শেষে অনুমতি দেবে প্রশাসন

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও জাহাজগুলোর ফিটনেস ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগামীকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে জাহাজমালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কক্সবাজারের বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট ছাড়া টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ কিংবা উখিয়া থেকে নৌযানে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সুযোগ নেই। একমাত্র সরকার অনুমোদিত জাহাজে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে পর্যটকেরা সেখানে যেতে পারবেন।

গত বছর পর্যটকবাহী একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাহাজগুলোর ফিটনেস যাচাই করছে। সবকিছু পরীক্ষা করে দেখার পরই জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

Link copied!