শনিবার ৩১, অক্টোবর ২০২৬

শনিবার ৩১, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

অনশনের ছয় মাস পরও পদোন্নতি পাননি নোবিপ্রবি শিক্ষক

নোবিপ্রবি থেকে রাকিব মোহাম্মদ আরজু

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

ড. মো. গোলাম মোস্তফা

পদোন্নতির দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ওশানোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফা। প্রশাসনের আশ্বাসে অনশন স্থগিত করার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও অধ্যাপক পদে তাঁর পদোন্নতির বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ওই শিক্ষকের বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

গত ২১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন শুরু করেন ড. গোলাম মোস্তফা। তাঁর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অবস্থান নেন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

অনশনকালে ড. গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এতে তাঁর পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যাচাইয়ে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী সব তথ্য সরবরাহ করার পরও পদোন্নতির বিষয়টি আটকে রাখা হয়েছিল। সে সময় তাঁর পদোন্নতি চার বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে ছিল।

অনশনের দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা শহীদ মিনারে যান। তৎকালীন উপাচার্য ঢাকায় অবস্থান করায় তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে উপ-উপাচার্য আশ্বাস দেন, ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তাঁর আইনগত ন্যায্য পাওনা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

প্রশাসনের এ আশ্বাসে অনশন স্থগিত করেন ড. গোলাম মোস্তফা। তবে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, দাবি পূরণ না হলে আবারও অনশনে বসবেন।তখন তিনি বলেছিলেন, তাঁর কর্মসূচি কোনো পদ পাওয়ার জন্য নয়; বরং তাঁর সঙ্গে হওয়া অন্যায়, অপমান ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিবাদে।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তৎকালীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরে ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী নোবিপ্রবির সপ্তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। নতুন উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নেতৃত্ব এলেও ড. গোলাম মোস্তফার পদোন্নতির বিষয়টি এখনো ঝুলে রয়েছে।

বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহে আফরান আবির বলেন, অনশনের দিন তৎকালীন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদোন্নতির বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পরও বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষকের ন্যায্য প্রাপ্য, পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।

মাহে আফরান আবির বলেন, “আমরা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ড. গোলাম মোস্তফা স্যারের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ একাত্মতা পুনর্ব্যক্ত করছি এবং বর্তমান প্রশাসনের কাছে নিয়ম ও নীতিমালা অনুসরণ করে দ্রুত সমাধানের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগের আশ্বাসের যথাযথ মূল্যায়ন করে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।

দীর্ঘদিনেও পদোন্নতি না পাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ড. গোলাম মোস্তফা বলেন, “এটা জুলুমের এক্সট্রিম লিমিট পার হয়ে গেছে। আমার আর কোনো ভাষা নাই।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনের কার্যক্রম চলছে। প্রথমে সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক পদের বোর্ডগুলোর কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এরপর অধ্যাপক পদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তিনি জানান, শুধু ড. মোস্তফা নন, অধ্যাপক হওয়ার যোগ্য আরও অনেক শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রয়েছে। এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি আবেদনও জমা পড়েছে। অধ্যাপক পদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রয়োজন হয়, তবে আলাদা কোনো মৌখিক পরীক্ষা দিতে হয় না।

উপাচার্য বলেন, প্রশাসন ধাপে ধাপে যোগ্য শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

আগামী রিজেন্ট বোর্ড সভার আগেই ড. গোলাম মোস্তফার পদোন্নতির বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব কি না, জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, ওই সময়ের আগে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা বেশ কঠিন।

Link copied!