বুধবার ২৮, অক্টোবর ২০২৬

বুধবার ২৮, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

কম্বোডিয়ায় দুই তরুণকে পাচার করে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪ এএম

কম্বোডিয়ায় দুই তরুণকে পাচার করে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২

ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের আশায় কম্বোডিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন বাংলাদেশের দুই তরুণ। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল প্রায় ছয় লাখ টাকা। কিন্তু দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাঁদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। পরে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারে তাঁদের একটি স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হতো তাঁদের। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

এই দুই তরুণকে মানব পাচার ও প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করার অভিযোগে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. শাওন মোল্লা (২৩) ও মো. সাকিব সরকার (২৬)। তাঁদের বাড়ি গাজীপুরের পুবাইল এলাকায়।

প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হতো

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টারে অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা সামান্য ভুল করলেও ওই দুই তরুণকে নির্যাতন করা হতো। সেখান থেকে স্বেচ্ছায় বেরিয়ে আসা কিংবা নিরাপদে দেশে ফেরার কোনো সুযোগ তাঁদের ছিল না।

সিআইডি জানায়, একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন ওই দুই তরুণ। স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করার পর তাঁদের মুক্ত করতে পরিবারের কাছে আরও পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সন্তানদের মুক্তির আশায় পরিবারের সদস্যরা সেই অর্থ পরিশোধ করেন।

তবে মুক্তিপণ দেওয়ার পরও মানব পাচারকারীদের নিয়ন্ত্রণ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাননি ওই দুই তরুণ। দেশে ফেরার বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করার জন্যও তাঁদের কাছ থেকে আরেক দফা টাকা নেওয়া হয়।

দুই মাস হোটেলে থাকার পর দেশে ফেরেন

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, মুক্তি পাওয়ার পরও ওই দুই তরুণ প্রায় দুই মাস কম্বোডিয়ার একটি স্থানীয় হোটেলে অবস্থান করেন। পরে অনলাইনে ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের সহায়তা নিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর তাঁরা বাংলাদেশে ফেরেন।

দেশে ফিরে গত ২৬ অক্টোবর এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা করেন তাঁরা। মামলায় শাওন মোল্লা ও সাকিব সরকারের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে।

নতুন শ্রমবাজারের আড়ালে প্রতারণা

মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে সুযোগ কিছুটা সংকুচিত হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের কর্মীদের একটি অংশ রাশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এসব দেশে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়ায় অন্য কাজ দেওয়ার কথা বলে বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি হতাহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কম্বোডিয়ায় যাওয়ার জন্য ১২ হাজার ২৬৩ জন বাংলাদেশি কর্মী ছাড়পত্র নিয়েছেন। ওই বছর বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারের তালিকায় কম্বোডিয়ার অবস্থান ছিল অষ্টম। অন্যদিকে, একই সময়ে রাশিয়ায় গেছেন ৪ হাজার ৭২৭ জন বাংলাদেশি কর্মী। দেশটির অবস্থান ছিল ১৩তম।

কম্বোডিয়ায় কলসেন্টারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের নিয়ে যাওয়ার পর অনলাইন প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্প্রতি বিভিন্ন স্ক্যাম সেন্টারে অভিযান চালিয়ে সেগুলো বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুনে ৬৪৬ জন বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফিরেছেন। এরপরও প্রতিদিন অনেকে ফিরছেন, আর অনেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কম্বোডিয়ার অর্থনীতি বাংলাদেশের চেয়ে ভালো নয় এবং দেশটিতে চাকরির সুযোগও সীমিত। তা সত্ত্বেও স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের সেখানে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ দেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন, আবার অনেকে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে বার্তা পাঠাচ্ছেন।

Link copied!