বুধবার ২১, অক্টোবর ২০২৬

বুধবার ২১, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

ল্যাপটপ পাচ্ছে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া ৪০ হাজার শিক্ষার্থী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ পরিকল্পনার কথা উঠে আসে। বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বাজেট বৃদ্ধি, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে। এ বরাদ্দ আগের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ

বৈঠকে ইএফটি ও আইবাস++ পদ্ধতিতে প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়। এ উদ্যোগের জন্য বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

এ ছাড়া শর্ত পূরণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রবীণ শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্তি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব উঠে আসে।

মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা, সংসদ সদস্যদের সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা বোর্ডের প্রধানদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

শিক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব

বৈঠকে শিক্ষার মান নির্ধারণে শুধু পাসের হারকে সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা না করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর পরিবর্তে বছরভিত্তিক শিখনফল মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাক্রম প্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ার আদলে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা-ভাবনা প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। এর লক্ষ্য হলো সরকার বা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের মৌলিক কাঠামোতে ঘন ঘন পরিবর্তন ঠেকানো।

সভায় কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া বলেন, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক সূচকে দেশের শিক্ষার্থীরা যেন পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য সুনির্দিষ্ট বছরভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রবর্তন জরুরি।

Link copied!