প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৯ পিএম
রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে একত্র করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের যে মডেল প্রস্তাব করা হয়েছে, তার প্রতি দেশের বেশিরভাগ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা সমর্থন জানিয়েছেন। তবে প্রস্তাবিত কাঠামোতে বিভিন্ন অস্পষ্টতা ও জটিলতার কথা উল্লেখ করে এর বিরোধিতা করেছেন ওই কলেজগুলোর অ্যালামনাই। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন মতামত উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার।
সভায় উপস্থিত সূত্রগুলো জানায়, নতুন প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের নীতিমালা, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সম্ভাবনা, সাত কলেজকে একীভূত করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, নারীদের ক্যাম্পাস-শিক্ষা ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বিদ্যমান আইনে কিছু অসামঞ্জস্যতা থাকায় কয়েকজন উপস্থিত ব্যক্তি তা সংশোধনের প্রস্তাবও দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব মতামত নোট আকারে সংরক্ষণ করেছে।
সূত্র আরও জানায়, সাত কলেজকে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করলে সরকারি আসন কমে যাবে, ফলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঝুঁকতে পারে—সভায় এমন আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়। অনেকেই মনে করেন, নতুন কাঠামো আসলে নীতিগতভাবে সরকারি শিক্ষার্থীদের বেসরকারি খাতে ঠেলে দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে সমস্যা বাড়াতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, “এই মডেলের বিরোধিতা আসলে প্রধানত করেছে অ্যালামনাইরা। অপরদিকে বেশিরভাগ উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তাবিত গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কেউ কেউ আইনের কিছু ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন। বিষয়গুলো আমরা পর্যালোচনা করব।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ মার্চ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজকে পৃথক করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের ঘোষণা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত নামটি ঠিক করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
