বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬

বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

মুখস্থ শিক্ষা নয়, সৃজনশীল শিক্ষা চাই: মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

ফাইল ফটো

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে মুখস্থনির্ভরতার গণ্ডি থেকে বের করে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা এবং বাস্তব দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার দিকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীতে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক করতে সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের জন্য আরও প্রস্তুত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল মুখস্থ বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সৃজনশীল চিন্তা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং বাস্তব দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্পখাতের যৌথ উদ্যোগে গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে।

সভায় আরও জানানো হয়, দেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও সম্প্রসারণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জীবনমুখী, কর্মমুখী এবং উৎপাদনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য ধীরে ধীরে শিক্ষাখাতে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে মাধ্যমিক স্তর থেকে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বৃদ্ধি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথাও সভায় তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা, পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল চালু এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

Link copied!