নোবিপ্রবি থেকে রাকিব মোহাম্মদ আরজু
প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
রবিবার ০৪, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --
সংগৃহীত
তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার প্রসার ও বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরির লক্ষ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ৪র্থ জাতীয় বিজ্ঞান উৎসব। নোবিপ্রবি সায়েন্স ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন। এতে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৩৪টি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। উৎসবে ৪৪টি প্রকল্প প্রদর্শন করা হচ্ছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) জাতীয় বিজ্ঞান উৎসব উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর প্রদক্ষিণ করে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন মো. তারেক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান উপস্থিত ছিলেন।
নোবিপ্রবি সায়েন্স ক্লাবের উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “সাইন্স ক্লাবের যাত্রা শুরু হয় ২০২০ সালে। এবারের চতুর্থ ন্যাশনাল সাইন্স ফেস্টে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, প্রোগ্রামিং, মিনি রিসার্চ আইডিয়া প্রেজেন্টেশন, রোবট লাইন রেস, পোস্টার প্রেজেন্টেশন ও প্রজেক্ট শোকেসসহ বিভিন্ন আয়োজন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের চিন্তা ও উদ্ভাবনী ধারণা কাজে লাগানোর এই সুযোগ ভবিষ্যতে বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় তাদের উৎসাহিত করবে। বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “চতুর্থ ন্যাশনাল সাইন্স ফেস্টে প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আমি অভিভূত। বিশেষ করে ছাত্রীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ বিজ্ঞানচর্চায় তাদের আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক হতে এবং ভবিষ্যতে গবেষণায় উৎসাহিত করবে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি বিজ্ঞানচর্চা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। এ আয়োজনের জন্য সায়েন্স ক্লাবকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
দুই দিনব্যাপী এ উৎসবে প্রজেক্ট শোকেস, প্রোগ্রামিং কনটেস্ট, থ্রি মিনিট থিসিস ও রিসার্চ আইডিয়া প্রেজেন্টেশন, ই-স্পোর্টস, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, সায়েন্স অলিম্পিয়াড, রোবট লাইন রেস, দাবা প্রতিযোগিতা ও ফটোগ্রাফি কনটেস্ট সহ বিভিন্ন ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব আয়োজনে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা, বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা ও দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করা নোবিপ্রবি সায়েন্স ক্লাব শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করা এবং তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণার দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।