রবিবার ০৪, অক্টোবর ২০২৬

রবিবার ০৪, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

মিউজিক ইভিনিংয়ে সুরের মূর্ছনায় যাত্রা শুরু রাবি মিউজিক সোসাইটির

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজি একাডেমিক ভবনের সামনে ‘মিউজিক ইভিনিং’ শীর্ষক এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়

ক্লাস-পরীক্ষার ব্যস্ততা ছাপিয়ে গানের সুরে মুখর হলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস। দেশাত্মবোধক গানসহ বিভিন্ন ধরনের গানের পরিবেশনায় তৈরি হয় সাংস্কৃতিক আবহ। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে ‘রাজশাহী ইউনিভার্সিটি মিউজিক সোসাইটি’। সংগীতানুরাগী শিক্ষার্থীদের এক ছাতার নিচে এনে ক্যাম্পাসে সংগীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয়ে সংগঠনটির পথচলা শুরু হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজি একাডেমিক ভবনের সামনে ‘মিউজিক ইভিনিং’ শীর্ষক এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশাত্মবোধক গানসহ বিভিন্ন ধরনের গান পরিবেশন করেন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা।

সংগঠনটির সভাপতি অনিন্দ্য অধিকারী রুদ্র বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সংগীতানুরাগী মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এই পথচলা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক ধারাকে আরও দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ করাই মূল লক্ষ্য।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সংগীতপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা শিক্ষার্থীকে এই যৌথ যাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর প্রত্যাশা, সংগঠনটির কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে সংগীতচর্চার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং সংগীতের প্রতি আগ্রহী শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবেন।

সংগঠনটির প্রথম আয়োজনে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী নম্রতা বর্মন সেতু। তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মিউজিক সোসাইটিতে সংগীত নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করার পাশাপাশি আনন্দঘন মুহূর্ত উদযাপনের সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা কীভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সংগীত পরিবেশন করতে পারেন, সেই দক্ষতা অর্জনেও সংগঠনটি ভূমিকা রাখবে।

নম্রতা বর্মন সেতু বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিভা থাকলেও মঞ্চে উঠে পরিবেশনার ক্ষেত্রে ভয় ও দ্বিধা কাজ করে। এ সংগঠন তাঁদের সেই সংকোচ কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারে। সংগীত নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী ও উৎসাহী সবাইকে তিনি সোসাইটিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে সংগীতের চর্চা বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের একই পরিসরে যুক্ত করতে পারে। সেই বিবেচনায় রাজশাহী ইউনিভার্সিটি মিউজিক সোসাইটির যাত্রা ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক পরিসরে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

তবে একটি সংগঠনের পথচলা কেবল সূচনালগ্নের আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। নিয়মিত সংগীতচর্চা, নতুন শিল্পীদের সুযোগ সৃষ্টি, বিভিন্ন ধারার সংগীতের বিকাশ এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই সংগঠনটির কার্যক্রমের পরিধি বিস্তৃত হতে পারে।

‘মিউজিক ইভিনিং’-এর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া রাজশাহী ইউনিভার্সিটি মিউজিক সোসাইটির এই যাত্রা তাই শুধু একটি সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন নয়; বরং ক্যাম্পাসে সংগীতপ্রেমীদের একত্র করা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার একটি উদ্যোগ।

Link copied!