রবিবার ০৪, অক্টোবর ২০২৬

রবিবার ০৪, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল বিরল সোনালী হনুমানের

মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

শ্রীমঙ্গলের আমরইলছড়া চা বাগানে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়া সোনালী হনুমান

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে একটি বিরল প্রজাতির সোনালী হনুমানের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আমরইলছড়া চা বাগানে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মাঝে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে চা বাগানের ভেতরে একটি উঁচু গাছ থেকে অন্য গাছে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে আসে হনুমানটি। সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে শর্ট সার্কিট হয় এবং শর্ট খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রাণীটি। গুরুতর আহত অবস্থায় সেটি ছটফট করতে থাকলে চা শ্রমিকরা দ্রুত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ। তারা আহত হনুমানটিকে উদ্ধার করে দ্রুত শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত শক ও শরীরের অভ্যন্তরীণ আঘাতে হাসপাতালে আনার আগেই হনুমানটির মৃত্যু হয়েছে। পরে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মৃত হনুমানটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, "সোনালী হনুমান অত্যন্ত বিরল ও সংকটাপন্ন একটি প্রাণী। শ্রীমঙ্গল ও লাউয়াছড়া বনে এদের সংখ্যা খুবই কম। বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে এমন মৃত্যু বন্যপ্রাণীর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা প্রায়ই এমন ঘটনার খবর পাই।" 

পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ জানান, চা বাগান ও বনের ভেতরে অরক্ষিত ও ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তারগুলো বন্যপ্রাণীর চলাচলের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বানর, হনুমান, লজ্জাবতী বানর ও পাখি প্রায়ই এসব তারে শক খেয়ে মারা যাচ্ছে।

বন বিভাগের একটি সূত্র জানায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও এর আশপাশের চা বাগানগুলোতে প্রায় ২০-২৫টি সোনালী হনুমান রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এর লাল তালিকায় এই প্রাণীটি বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক লাইনগুলোকে আবৃত (কভার্ড) তারে রূপান্তর এবং বন্যপ্রাণী চলাচলের জন্য আলাদা ক্যানোপি ব্রিজ বা পারাপারের ব্যবস্থা করা না হলে এমন মৃত্যু ঠেকানো যাবে না।

Link copied!