রবিবার ০৪, অক্টোবর ২০২৬

রবিবার ০৪, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক, গর্ভপাত করানোর অভিযোগ ইবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে 

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

সংগৃহীত

 প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক, মানসিক নির্যাতন, গর্ভপাত করানো, ব্ল্যাকমেইল এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জিহাদুল করিম। এ ঘটনায় সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল এবং প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে জিহাদুল করিমের সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। পরবর্তীতে জিহাদুল করিম আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল এবং আর্থিক সুবিধা নিতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন হোটেল বুকিং দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ওই ছাত্রী। এমনকি তাকে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করা এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তারও অভিযোগ করেন তিনি।

 

এদিকে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি গত সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়ার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক সদস্য বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা উভয়ই সম্মতির ভিত্তিতে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। আমরা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে সমাধান করতে উভয়কে বিবাহের মাধ্যমে মিটমাট করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু অভিযুক্ত ছাত্র বিভিন্ন সময়ে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি করে বিবাহের প্রক্রিয়া এড়িয়ে গেছে।” 

 

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টুডেন্ট কোড অব কন্ডাক্ট’ (শিক্ষার্থীদের আচরণবিধি) অনুসরণে তাদের নৈতিক স্খলনের দায়ে শাস্তির সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে একাডেমিক শাস্তির বাইরে অন্য কোনো প্রশাসনিক বা আইনি সাজা দেওয়ার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই।”

 

অভিযোগের বিষয়ে জিহাদুল করিম বলেন, “হ্যাঁ, এটা সত্যি আমাদের চার বছরের সম্পর্ক ছিল। তবে সবকিছু প্রলোভনে হয়নি, বরং উভয়ের সম্মতিতে সবকিছু হয়েছে। হোটেল বুকিংয়ের জন্য ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এগুলো ওই মেয়েই বানিয়েছিলো। এটা আমার করা নয়। আমি শুধু প্রিন্ট দিয়েছিলাম।” এসময় গর্ভপাতের বিষয়ে তিনি বলেন, “বাচ্চা কনসেপ্টের বিষয়টি সত্য।” তবে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

 

এদিকে, নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, গত ৮ জুন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা করার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো ধরনের সহায়তা করেনি। দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান করার পরও তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করেনি থানা কর্তৃপক্ষ। 

 

ভুক্তভোগীর দাবি, জিহাদুল করিম ভুয়া কাবিননামা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের বিষয়ে “পুরোটাই মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য” দিয়েছেন। এসব ডকুমেন্ট তৈরিতে জিহাদুলের বন্ধু আমিরুল ইসলাম (ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, শিক্ষাবর্ষ: ২০১৯-২০) সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে আমিরুল সহযোগিতা করতেন এবং বিষয়টি পরবর্তীতে জিহাদুল তাকে জানান। ছাত্র উপদেষ্টার কাছে জিহাদুল বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেন ওই ছাত্রী। 

 

এছাড়া গর্ভপাতের বিষয়ে ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, জিহাদুল করিম তার খালাতো ভাই রাকিব ইসলাম ও পরিচিত বন্ধুবর মিরাজের পরামর্শে তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করিয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। 

 

এদিকে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির বিষয়ে আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। 

 

প্রসঙ্গত, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

 

Link copied!