রবিবার ০৪, অক্টোবর ২০২৬

রবিবার ০৪, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

সিভিল সার্জনের বিস্ফোরক অনিয়ম ৪ মাসে ৪৫ থেকে ১৩৪ ডায়াগনস্টিকে লাইসেন্স

মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

সংগৃহীত

 

 

দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি প্রত্যাহার হওয়া মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানের সময়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে জেলার ১৩৪টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স হালনাগাদ বা অনুমোদিত দেখানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয়বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমানের দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তাকে এক দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় ডা. মো. জাকির হোসেনকে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে ডা. মামুনুর রহমানের সময়ে দেওয়া এক প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলায় ১৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১১টি হাসপাতাল ও ৩৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ মোট ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ লাইসেন্স ছিল। তবে চার মাসের ব্যবধানে ১৩৪টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অনুমোদিত হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সময়ে মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনহীন হিসেবে দেখানো হয়েছে।

 

অনুমোদনহীন দেখানো প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- মৌলভীবাজার শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকার সোনার বাংলা কিডনি ফাউন্ডেশন, শহরের জুগিডর এলাকার সূর্যের আলো হাসপাতাল, সদর উপজেলার শেরপুর এলাকার আরহাম ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কিউর ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং শেরপুর ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে জেলা শহরের দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম প্রকাশ্যে চলার অভিযোগও রয়েছে।

 

অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স হালনাগাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, সমঝোতার মাধ্যমে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, অনুমোদনহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম নিয়ে আমি ধরলে সমস্যা, আবার না ধরলেও সমস্যা। খবর নিয়ে দেখেন, ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা এখন সরকারি দলের পরিচয় দেন।

 

তিনি আরও বলেন, শতভাগ নিয়মনীতি মেনে ধরলে একটি প্রতিষ্ঠানও লাইসেন্স পাবে না।

 

Link copied!