মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
শুক্রবার ০২, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --
সংগৃহীত
হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ফের উত্তপ্ত পরিবহন খাত। হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার বাস মালিক-শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি বাস আটকের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর থেকে হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে এই ধর্মঘট শুরু হয়। ধর্মঘটের কারণে হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণ সব রুটসহ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট রুটে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলার সব যানবাহন মালিক-শ্রমিক সমিতি এই ধর্মঘটে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
জানা যায়, বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া তিনটি যাত্রীবাহী বাস আটকে রাখেন মৌলভীবাজারের শ্রমিকরা। এর প্রতিবাদে বুধবার রাতে জরুরি বৈঠক করে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে দুই জেলার মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ চলছে। এই রুটে চলাচলকারী বাসগুলো কোন জেলা কতটি চালাবে, তা নিয়ে সমঝোতা থাকলেও প্রায়ই মৌলভীবাজারের শ্রমিকরা আমাদের বাস আটকে রাখে। বিভিন্ন সময় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বৈঠক করে সমাধান হলেও পরে আবার একই ঘটনা ঘটে। বুধবার তিনটি বাস আটকের পর আমরা বাধ্য হয়ে ধর্মঘটে গেছি। আমাদের দাবি, এই রুটে সুষ্ঠুভাবে বাস চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে আকস্মিক ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ, চুনারুঘাটসহ বিভিন্ন স্ট্যান্ডে শত শত যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ঢাকা, সিলেট, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গলগামী যাত্রীরা গন্তব্যে যেতে পারছেন না। বিশেষ করে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও রোগী পরিবহনে থাকা মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছেন।
সিলেটগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, "সকালে সিলেট যাওয়ার জন্য টার্মিনালে এসেছি। এসে শুনি ধর্মঘট। এখন সিএনজি অটোরিকশায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে ভেঙে ভেঙে যেতে হবে।"
আরেক যাত্রী কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, "মৌলভীবাজারে পরীক্ষা আছে, কিন্তু বাস বন্ধ। এই বিরোধের কারণে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কেন ভোগান্তি হবে?"
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, হবিগঞ্জ-সিলেট রুটটি অত্যন্ত লাভজনক। এই রুটে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক বাস চলাচল করে। রুট পারমিট ও ট্রিপ সংখ্যা নিয়ে দুই জেলার মালিক সমিতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। মৌলভীবাজার জেলার মালিকরা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জের বাসগুলো নির্ধারিত ট্রিপের চেয়ে বেশি ট্রিপ দিচ্ছে। আবার হবিগঞ্জের মালিকদের অভিযোগ, তাদের বৈধ বাসও শ্রীমঙ্গলে আটকে চাঁদা দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা বাস মালিক সমিতির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সমঝোতা অনুযায়ী চলার কথা থাকলেও হবিগঞ্জের কিছু বাস অতিরিক্ত চলাচল করছে, ফলে তাদের শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাস আটকেছে।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, বিষয়টি নিয়ে দুই জেলার প্রশাসন ও মালিক-শ্রমিক নেতাদের নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত ধর্মঘট প্রত্যাহারের চেষ্টা চলছে।
তবে লিখিত সমাধান না আসা পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ। ফলে দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।