মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
শুক্রবার ০২, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --
সংগৃহীত
মৌলভীবাজারে কথিত সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েন বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ২ কোটি ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে কথিত ২০০ কোটি টাকা মূল্যের এন্টিক কয়েনসহ প্রতারণার বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, রাজনগর উপজেলার বাংলা টিলা (পণ্ডিত নগর) গ্রামের এস এম ইলিয়াছুর রহমান (৩৬), শ্রীমঙ্গলের উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামের মো. ইকরাম মিয়া (২৮), ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার শ্যামলী এলাকার তাহের-উল-ইসলাম আখতারুজ্জামান (৬১) এবং মোহাম্মদিয়া হাউজিং এলাকার মো. ইব্রাহিম বেপারী (৩৭)।
পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) নোবেল চাকমার দিক-নির্দেশনায় ও ডিবির ওসি সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এসআই আহলাদ ইবনে জামিলের নেতৃত্বাধীন একটি টিম শ্রীমঙ্গল ও রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি এন্টিক পাওয়ার কয়েন, একটি নোহা গাড়ি, একটি পকেট রাউটার, ৮টি মোবাইল ফোন, ১০টি সিমকার্ড, বিভিন্ন নামে ৫০০টি ভিজিটিং কার্ড, ৯৪ পাতা ভুয়া বিজনেস এগ্রিমেন্ট, ৩টি চেকবই, একটি কয়েন ব্ল্যাংক অ্যালবাম ও 'এন্টিক গ্যালারি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড' এর ভুয়া সার্টিফিকেট জব্দ করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের Heritage Auction, Lockheed Martin, Black Rock, Microsoft এর মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানির বাংলাদেশ প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। ২০২৩ সালে একই ধরনের প্রতারণার মামলায় ঢাকা ডিবির হাতে গ্রেফতারও হয়েছিল তাদের কয়েকজন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, রাজনগরের বালিসহস্র গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমকে চাতলাপুর চা বাগানে ব্রিটিশ আমলের হাজার কোটি টাকা মূল্যের সীমানা পিলার আছে বলে প্রলোভন দেখানো হয়। ঢাকায় বড় ক্রেতা আছে বলে বিশ্বাস করিয়ে প্রথমে ১ কোটি টাকার ৪টি স্বাক্ষরিত চেক নেয় চক্রটি। পরে কথিত এক্সপার্ট দিয়ে পিলার পরীক্ষা করিয়ে আসল বলে বিশ্বাস করানো হয়।
পরে পিলার হস্তান্তরের নামে একটি বক্সে করে নগদ ২ কোটি টাকা নেয় তারা। ভুক্তভোগী বক্সটি সিলেটে নিয়ে খুলে দেখেন ভেতরে কোনো পিলার নেই, রয়েছে একটি সাপ।
ভুক্তভোগী যোগাযোগ করলে চক্রের সদস্যরা দাবি করে, টাকা নিয়ে বিরোধের কারণে জিনের মাধ্যমে পিলার সাপে পরিণত হয়েছে, ২১ দিন পর ফিরে আসবে। এভাবে নানা অজুহাতে আরও ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। সব মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালে কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর প্রেস বিফ্রিংকে
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা বলেন, চক্রটি অত্যন্ত সুসংগঠিত। তারা ভুয়া কোম্পানির পরিচয় ও কথিত এক্সপার্ট সাজিয়ে মানুষকে বোকা বানায়। এ ধরনের অস্বাভাবিক লাভের প্রলোভনে না পড়তে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।